নৌকা ও ধানের শীষের লড়াইয়ে ১৫ মে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন। গাজীপুর ও খুলনা সিটি নির্বাচনের তারিখ একসঙ্গে নির্ধারিত হলেও গাজীপুর নির্বাচন স্থগিত হয়ে তারিখ পেছানোতে খুলনা নির্বাচনের গুরুত্ব অনেক বেড়ে গেছে। নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন সরকার ও নির্বাচনে অংশ নেয়া দল– সবার জন্যই এ নির্বাচন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
এবার খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ৫ জন প্রার্থী রয়েছেন। এছাড়া কাউন্সিলর পদে সাধারণ ৩১টি ওয়ার্ডে ১৪৮ ও ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৩৮ জন নারী প্রার্থী আছেন। অর্থাৎ, মেয়র ও কাউন্সিলর পদে (সংরক্ষিতসহ) সব মিলিয়ে ১৯১ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৪৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের নগরীতে ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ২৮৯টি। ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩, যার মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৬ ও নারী ভোটার ২ লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন।
বাণিজ্যিকভাবে এক সময়ের গুরুত্বপূর্ণ শহরে নানা দাবি-দাওয়া আর অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যে ভোট গ্রহণের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের নানা উন্নয়নমুখী কর্মকাণ্ডের মধ্যেও খুলনা অনেকটা অবহেলিত। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় বন্ধ করে দেয়া হয় এ অঞ্চলের পাটকলসহ ৮টি শিল্প-কারখানা। বর্তমান সরকার খালিশপুর জুট মিল, দৌলতপুর জুটমিল এবং পিপলস মিলসহ চারটি পাটকল চালু করে। নির্বাচনকে সামনে রেখে ৯টি সরকারি পাটকল শ্রমিকরা কয়েক মাসের বকেয়া মজুরি ও ভাতা না পেয়ে বকেয়া বেতন-ভাতাসহ ১১দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। বন্ধ কয়েকটি পাটকল চালু করলেও বেতনভাতাসহ সুযোগ সুবিধা না পাওয়ায় দুর্ভোগে প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক পরিবার। দাবি মানা না হলে সিটি নির্বাচনে ভোট না দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিকরা। এই ইস্যুটি সরাসরি এই নির্বাচন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না হলেও জাতীয় রাজনীতির বিবেচনায় বিষয়টি নির্বাচনে একটি ভিন্ন মাত্রা এনেছে।
‘গণগ্রেফতার’ ও ‘পুলিশের অবৈধ বলপ্রয়োগের’ বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী নানা অভিযোগের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নির্বাচনের স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ১৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ প্রার্থীও কিছু কিছু বিষয়ে অভিযোগ করেছেন। নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুললেও নির্বাচনের আগ মুহূর্তে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। নিরপেক্ষতা বজায় রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বর্তমান নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত যতগুলো ছোটবড় নির্বাচন হয়েছে, তা যথেষ্ট অংশগ্রহণমূলক ও আপাতদৃষ্টিতে নিরপেক্ষ হয়েছে বলা যেতে পারে। আমাদের আশাবাদ, নির্বাচন কমিশন সেই ধারা বজায় রাখতে পারবে এবং জাতি একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে পাবে, সেসঙ্গে বড় দুই রাজনৈতিক দলসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবাই নির্বাচনের আগে-পরে নিয়মতান্ত্রিক আচরণ ও শিষ্টাচার প্রদর্শন করবে। এসবই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পথকে মসৃণ করবে বলে আমরা আশা রাখি।







