বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ও তার ছেলে তারেক রহমানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণা হতে পারে দিনের যে কোনো সময়। সেই রায়ের অপেক্ষার চিত্র যেন ঢাকার রাজপথ জুড়ে।
দিনরাত যেখানে সেখানে যখন তখন যানজটের জন্য প্রসিদ্ধ রাজধানী ঢাকার রাজপথগুলোতে আজ নেই কোনো জ্যাম। রাস্তায় গণপরিবহন, ব্যক্তিগত যান দু’টোই স্বাভাবিকের চেয়ে যথেষ্ট কম। তাই গন্তব্যে যাওয়ার পথে আজ আর জ্যামের ভোগান্তিতে দেরি হচ্ছে না কারও।
সরকার ও পুলিশ প্রশাসন যতই সুরক্ষার নিশ্চয়তা দিক না কেন, ‘কী হবে’, ‘কী ঘটে যায়’, ‘পথে নিরাপদ থাকব কিনা’ – এই দুশ্চিন্তায় বাড়ির বাইরে বের হওয়ার বদলে ঘরে থাকাটাকেই বেশি নিরাপদ মনে করছেন অনেকেই। নিতান্ত নিরুপায় না হলে যেন বের হচ্ছেন না কেউ ঘর থেকে। আর তারই প্রমাণ ঢাকার রাস্তাঘাটে জ্যাম না থাকা।
রাজধানীবাসী যারা এই দিনে রাস্তায় বেরিয়েছেন কোনো না কোনো কাজে তাদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই প্রায় ফাঁকা রাস্তা নিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাদের নানারকম ব্যঙ্গাত্মক স্ট্যাটাসেও প্রকাশ পেয়েছে চিরাচরিত ট্রাফিক জ্যাম থেকে অন্তত একদিনের এই মুক্তির আনন্দ।
আব্দুল্লাহ আল সাফি ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসে লিখেছেন:
ঢাকার স্বৈরাচারী জ্যাম গেল কই?
নিশ্চয় শালা ভেগেছে!
গণতান্ত্রিক বাসেরা, তোমরা বের হও প্লিজ,
দেখো ম্যাংগো পাবলিক তোমাকে দেখতে
সারি সারি দাড়িয়ে…
গুগল ম্যাপে কোনো এলাকার রাস্তায় যানজট কতটুকু তা দেখার ব্যবস্থা রয়েছে। রাস্তায় গাড়ি যেখানে যত বেশি, রঙ তত গাঢ় হয়ে লাল-গাঢ় লাল হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার সকালের দিকের গুগল ম্যাপের স্ক্রিনশটসহ কাজী হোসনেহ মোবারক পরিস্থিতিকে ঈদের সঙ্গে তুলনা করে লিখেছেন:
দেশের ইতিহাসে এই প্রথম গুগল ম্যাপের শিরা-উপশিরায় কোন রক্ত জমাট বাধেনি। হার্টে কোন ব্লক নেই। রক্ত চলাচল স্বাভাবিক আছে। ঈদ মোবারক।
জ্যাম নেই, তাই পথে হচ্ছে না দেরি। তাই একইভাবে গুগল ম্যাপের স্ক্রিনশট দিয়ে আরেকজন লিখেছেন: আজ অফিসে লেট হওয়ার কারণ কী বলা যায়??
এছাড়া ট্রাফিক অ্যালার্ট জাতীয় ফেসবুক গ্রুপগুলোতেও আজকের আলোচনার বিষয় রাস্তার জ্যাম-সংকট ও গণপরিবহন পাওয়ার অনিশ্চয়তা।
তবে আগে হরতালের সময় রাজধানীর রাজপথগুলো যেমন ফাঁকা থাকত, তার সঙ্গেও আজকের রাস্তাকে তুলনা করেছেন কেউ কেউ। ট্রাফিক অ্যালার্ট গ্রুপে তাই এক ফেসবুক ব্যবহারকারী পোস্ট করেছেন এই ছবিটি…
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাজধানীকে দেখা গেছে ঢিলেঢালা অবস্থায়। ব্যক্তিগত যানবাহন রাস্তায় যথেষ্ট থাকলেও স্বাভাবিকের তুলনায় ছিল অনেক কম। এছাড়া গণপরিবহন ব্যবস্থা প্রায় স্বাভাবিক ছিল। তবে সাধারণ মানুষের চোখে-মুখে ছিল অজানা আতঙ্কের ছাপ।
সকালের মৃদু শীত ও হালকা কুয়াশার মধ্যেও রাজধানীবাসীকে নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রাস্তায় চলাচল করতে দেখা গেছে। বিভিন্ন অফিস-আদালত ও স্কুল কলেজ খোলা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের দেখা গেছে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে।
তবে জনজীবন স্বাভাবিক থাকলেও অন্যান্য দিনের তুলনায় রাজপথে লোকজনের উপস্থিতি অনেক কম।
তারপরও অন্যদিনের চেয়ে গণপরিবহন কিছু কম থাকায় গন্তব্যস্থলে যেতে সময়মতো গাড়ি পেতে সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অনেকেই।
প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য ও ছবি দিয়ে সহযোগিতা করেছেন; তানজীমা এলহাম বৃষ্টি, সাইফুল্লাহ সাদেক ও তামান্না তামিম।








