যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্যদের সই জাল করে তারেক রহমানের নামে বিবৃতি প্রচারকারী এবং বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিদেশ বিষয়ক উপদেষ্টা পরিচয়দানকারী জাহিদ এফ সরদার সাদী গ্রেফতারের ঘটনা সমর্থন জানিয়েছে বিএনপি।
দলটি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী যদি কেউ এমন প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে থাকে তাহলে তাকে অবশ্যই গ্রেফতার করতে পারে। কোন জালিয়াত ও অপরাধীর সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক নেই। এ নামে চেয়ারপার্সনের কোন উপদেষ্টা নেই বলেও দাবি বিএনপির।
মঙ্গলবার বিকালে বিএনপির মুখপাত্র ও জ্যেষ্ঠ যু্গ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টাদের তো আমরা চিনি, জানি। এমন কেউ তো কখনো ছিলেন না। তিনি যদি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কেউ হয়ে থাকেন তাহলে ওখানকার বিএনপি তাকে আগেই বহিস্কার করেছে।
জাহিদ এফ সরদার সাদী নামে কারো সঙ্গে বিএনপির কোন সম্পর্ক নেই বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন রিজভী।
তিনি বলেন, কোন প্রতারকের স্থান বিএনপিতে নেই। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী কোন ব্যক্তি বা দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ প্রতারণা করলে তার বিচার ও শাস্তি হোক সেটাই বিএনপি চায়। এমন কোন প্রতারক ও জালিয়াত বিএনপিতে থাকতে পারে না।
বিভিন্ন সময় তিনি খালেদার উপদেষ্টা পরিচয়ে টেলিফোনে বাংলাদেশের পুলিশকে হুমকি-ধমকি দিতেন। বিএনপি নেতা-কর্মীরাই ওইসব ফোনের অডিও টেপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেছেন।
জাহিদ এফ সরদার এর আগে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে শাস্তি পেলেও নির্দিষ্ট দিনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে হাজিরা এড়িয়ে পালিয়ে যাওয়ায় তাকে এবার গ্রেফতার করা হয়েছে। ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের অরল্যান্ডো ডিভিশনে মিডল ডিস্ট্রিক্ট ফেডারেল কোর্টের গ্রেফতারি পরোয়ানায় গত ১৭ মে ওয়াশিংটন ডিসি থেকে সাদীকে ধরে এফবিআই।
এরপর ৯ জুন তাকে ফ্লোরিডার আদালতে হাজির করা হলে বিচারক গ্রেগরি এ প্রেসনেল তাকে কারাগারে রাখার নির্দেশ দেন। ২৭ জুন তার আদালতে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফ্লোরিডার আদালতের নথিপত্রে দেখা যায়, সাদী যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে দেউলিয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত করতে নানা ধরনের চক্রান্ত ও চুরির আশ্রয় নিয়েছেন।
ভুয়া চেক, ব্যাংকের সঙ্গে প্রতারণা, বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতারণার দায়ে আদালত ২০১৪ সালে সাদীকে শাস্তি দিয়েছিল। তবে শর্তাধীনে সাদী বাইরে ছিলেন। শর্তের মধ্যে অন্যতম ছিল প্রতি মাসের ৫ তারিখের মধ্যে নিকটস্থ প্রবেশন অফিসারের সঙ্গে দেখা করে নিশ্চিত করতে হবে যে তিনি আর কোনো অপকর্মে লিপ্ত হননি অথবা অরল্যান্ডো সিটি ত্যাগ করেননি।
কিন্তু এই শর্ত তিনি শুরু থেকেই লঙ্ঘন করে চলছিলেন। তিনি নিউইয়র্কে পালিয়ে গেছেন জানার পর নিউইয়র্ক সিটির ফেডারেল কোর্টের প্রবেশন অফিসার মাইকেল কক্সের কাছে চিঠিও পাঠান অরল্যান্ডোর প্রবেশন অফিসার। এরপরও সাদী অরল্যান্ডোতে গিয়ে হাজিরা না দেওয়ায় তাকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি হয়।
বরিশালের সাদী নানা ধরনের প্রতারণা, জালিয়াতির মামলায় ২৭ বার গ্রেপ্তার হন যুক্তরাষ্ট্রে। প্রতিবারই ছোটখাটো শাস্তি হয় তার।
২০১৫ সালের জানুয়ারিতে ছয় কংগ্রেস সদস্যের স্বাক্ষর জাল করে তারেক রহমানের পক্ষে একটি বিবৃতি প্রচার করেছিলেন সাদী। তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ওঠে। প্রবাসী বিএনপি নেতারাও তা নিয়ে বিব্রত হওয়ার কথা স্বীকার করে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের কথা জানান।










