দুর্নীতির দায়ে বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সাজার ঘটনায় লজ্জা পান খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম।
সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে ভাষা সংগ্রামী গাজীউল হক স্মরণে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘অর্থ-আত্মসাতের মামলায় তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জেল হওয়ায় তাদের লজ্জা না হতে পারে, কিন্তু একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে আমার লজ্জা হয়’।
২০১৬ সালের ২৭ মার্চ আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। তাদেরকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানার দণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
অনুষ্ঠানে বিএনপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে কামরুল বলেন, বিএনপি যদি কোনো ষড়যন্ত্র করে তাহলে তাদের অন্তিম সময় চলে আসবে।
‘রায়ে আমাদের কোনো হাত নেই। এটা আদালতের সিদ্ধান্ত। তারপরও আদালতের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সারাদেশে যা শুরু করেছে তা শোভনীয় নয়। আমি বলতে চাই যদি কোনো প্রকার অসদাচরণ করা হয় তাহলে আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী সমুচিত জবাব দেবে। আর আমরাও তাদের সহায়তা করবো।
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বিএনপিকে ভাঙতে যাবে না বরং খালেদা জিয়া নিজেই দলের ভাঙনের পথ তৈরি করেছেন। জেলে যাওয়ার আগে গঠনতন্ত্র সংশোধন করে দলের সিনিয়র নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে একজন ফেরারি আসামীকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব দেওয়ায় দলের ভেতরে ভাঙনের পেরেক ঢুকছে’।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু বলেন, ‘বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত থেকে এখনো মানুষ হত্যার দাগ শুকানোর আগেই জেলে বসে মানুষ হত্যার ষড়যন্ত্র করছেন। আজও মানববন্ধনের নামে জাতীয় প্রেসক্লাবে কী অসদাচরণ করেছেন। এই ধরনের আচরণ জনগণ গ্রহণ করেনি, আমরা করিনা’।
আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা, সবুজবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চিত্তরঞ্জন দাসের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। এছাড়াও দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এ মামলার অন্য চার অাসামীকে বিএনপির সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগনে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তাছাড়াও আত্মসাত করা ২ কোটি, ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা খালেদা জিয়া বাদে অন্য অাসামীদের জরিমানা করেছেন আদালত।







