বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বুধবারের সংবাদ সম্মেলন সরকার গণমাধ্যমে সরাসরি প্রচার করতে দেয়নি অভিযোগ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ বলেছেন, গণমাধ্যমকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে এই সরকার। সরকারের হুকুম ছাড়া দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট খবরও প্রকাশ পায়না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
রিজভী আহমেদ বলেন, বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে দেশের মানুষের সকল অধিকার ভুলুন্ঠিত করেছে। এমনকি মানুষের মৌলিক অধিকার পর্যন্ত হরণ করতে সরকার কুন্ঠাবোধ করছে না।
তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দলের প্রধান, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। বুধবার বিকেল সাড়ে চারটায় গুলশানস্থ কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন শুরু হলে বেশ কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেল চেয়ারপারসনের বক্তব্য সরাসরি সম্প্রচার শুরু করলেও সাথে সাথে তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, অধিকাংশ টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে গুরুত্বহীনভাবে বিএনপি চেয়ারপারসনের বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে বা কোনো কোনো টেলিভিশন চ্যানেলে তা সম্পূর্ণ ব্ল্যাকআউট করা হয়েছে। সরকারের সরাসরি নির্দেশেই বিএনপি চেয়ারপারসনের বক্তব্য প্রচারে এই বাঁধা বলে মন্তব্য করেন রিজভী।
রিজভী আরো বলেন, দেশের অনেক জাতীয় দৈনিকেও বেগম খালেদা জিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যকে গুরুত্বসহকারে উপস্থাপন করা হয়নি। গণমাধ্যমকে বেপরোয়াভাবে নিয়ন্ত্রণের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বিএনপি চেয়ারপারসনের বক্তব্য প্রচারের ওপর অঘোষিত এই সেন্সরশীপ আরোপের মাধ্যমে।
সরকারের অপকর্ম ঢাকতেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর সরকার বেপরোয়া হস্তক্ষেপ চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, সরকারের এই আচরণ স্বেচ্ছাচারি, অগণতান্ত্রিক ও সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা হরণের আরেকটি দৃষ্টান্ত।
এটিকে বিরোধী দলের প্রতি সরকারের প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যক্তি ও মত প্রকাশের স্বাধীনতায় অবিশ্বাসী একটি রাজনীতিক দল এরা , যারা বিরোধী মত সহ্য করাকে অপরাধ বলে মনে করে। সেজন্যই গুম, খুন ও বন্দুকযুদ্ধের নামে বিচারবর্হিভূত হত্যার কর্মসুচি অব্যাহত রেখে বিরোধী দলশুন্য প্রতিবাদহীন বন্দীশালায় পরিণত করেছে সারাদেশকে, একই সঙ্গে অদৃশ্য করা হয়েছে মানুষের সকল অধিকারসহ গণতন্ত্রকে।








