সম্পাদকীয়

খাদ্যকে কতটা নিরাপদ করা গেল?

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের লোগো, খাদ্য নিরাপত্তা ও মানের প্রতীক. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের লোগো, খাদ্য নিরাপত্তা ও মানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

পঞ্চমবারের মতো বুধবার দেশে পালিত হবে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস। যার শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য রাখা হয়েছে ‘সু-স্বাস্থ্যের মূলনীতি, নিরাপদ খাদ্য ও স্বাস্থ্যবিধি’। মূলত নিরাপদ খাদ্য নিয়ে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সচেতন করে তোলাই এই দিবস পালনের লক্ষ্য। আরও সহজ করে বললে, জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সংবিধান মানুষকে নিরাপদ খাদ্য পাওয়ার যে অধিকার দিয়েছে, তা নিশ্চিত করা।

এ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। তারা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, আমদানি, প্রক্রিয়াকরণ, মজুত, সরবরাহ, বিপণন এবং বিক্রয়- এসব ধাপে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে চেষ্টা করে যাচ্ছে। অর্থাৎ জনসচেতনতা বাড়ানোই দিবসটির অন্যতম লক্ষ্য।

আমরা জানি, জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবারের কোনো বিকল্প নেই। নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য যেমন শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, উল্টো দিকে অনিরাপদ খাদ্য হৃদরোগ, ক্যান্সার, কিডনি রোগ, বিকলাঙ্গ-সহ অনেক রোগের কারণ হয়। দুঃখজনক হলেও সত্যি, এসব রোগ বাংলাদেশে মহামারীর আকার নিয়েছে। বলতে গেলে ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে এসব ঘাতক ব্যাধি।

নতুন করে আর বলার অপেক্ষা রাখে না- খাদ্যে ভেজালই জনসংখ্যার বড় একটা অংশকে তিলে তিলে শেষ করে দিচ্ছে। বিশেষ করে ট্রান্স ফ্যাটি এসিড (টিএফএ) যুক্ত বিষাক্ত খাবার। যার প্রধান উৎস ডালডা বা বনস্পতি। বেকারি পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও ভাজা পোড়া খাবারে ব্যাপকভাবে ডালডা ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে হোটেল-রেস্তেরাঁয়।

এসব খাদ্যের কারণেই হৃদরোগে মৃত্যুর সর্বাধিক ঝুঁকিতে থাকা ১৫টি দেশের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশ। দিনে দিনে সেই অবস্থার আরও অবনতি ঘটছে। কেননা নানাভাবে সচেতন করার পরও খাদ্যে ভেজালের পরিমাণ কমেনি। বাজারের বেশিরভাগ খাদ্যই এখন কম-বেশি ভেজালযুক্ত। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপদ খাবার পাওয়া ‘খড়ের গাদায় সুই খোঁজা’র মতো বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যদিও সরকার নিরাপদ খাদ্য আইনসহ বেশ কয়েকটি বিধিমালা ও প্রবিধিমালা করে বিএফএসএ-কে আরও সক্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু শুধু আইন আর বিধিমালা দিয়ে নিরাপদ খাদ্যর মতো এত ব্যাপক লক্ষ্যে পৌঁছানো খুবই কঠিন। আমাদের অভিজ্ঞতা বলে, এসব উদ্যোগে কোনো কাজই হয়নি।

এটা ঠিক বিএফএসএ- এর নানান সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে সবার আগে খাদ্যের গুণগতমানের দিকে তাদের নজর দেওয়া জরুরি। এছাড়াও গবেষণার পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্যের বড় নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কাজও করতে হবে। তবে এই কাজ শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে করা সম্ভব না। এর জন্য প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা।

আমরা মনে করি, অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সব শক্তি নিয়ে সরকারকে মাঠে নামতে হবে। তা না হলে খাদ্যে ভেজাল বন্ধ করা সম্ভব না।

 

বিষয়:অনিরাপদ খাদ্য নিরাপদ খাদ্য নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…