বাংলাদেশের দারিদ্র বিমোচনে ক্ষুদ্র ঋণের ভুমিকা নিয়ে অর্থনীতিবিদরা মিশ্র মতামত দিয়েছেন। তাদের কেউ কেউ বলছেন, ক্ষুদ্র ঋণ ব্যবস্থা দারিদ্র দূর করতে কিছুটা ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। আবার কেউ ভিন্নমত পোষণ করে বলছেন, এ ঋণ দারিদ্র দূরীকরণে পুরোপুরি ব্যর্থ, এ ঋণ নিয়ে অনেকে সর্বস্ব হারিয়েছেন; কেউ কেউ ঋণের বোঝা বইতে না পেরে বেছে নিয়েছেন আত্মহত্যার পথ।
ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে কথা বলে চ্যানেল আই অনলাইন। আলাপে এসব বিষয়ে উঠে আসে।
সম্প্রতি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রশংসা করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমে গ্রামীণ ব্যাংক এবং ড. মুহম্মদ ইউনূস অনেক অবদান রাখছেন। দরিদ্র্য বিমোচনে ইউনূস ও স্যার ফজলে হাসান আবেদের অবদান সবার ওপরে।
অর্থমন্ত্রীর এই মন্তব্যের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ক্ষুদ্রঋণ দারিদ্র্য কমায় না, এতে দারিদ্র্য লালন-পালন হয়। যারা এই ঋণের ব্যবসা করে তাদের লাভ হয়। অর্থমন্ত্রী এসব বিবেচনায় না নিয়ে এমন একজনের প্রশংসা করেছেন, যার কারণে পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বাতিল হয়ে গেছে।’
ক্ষুদ্র ঋণ দরিদ্র বিমোচনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারেনি বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর অর্থনীতিবিদ খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ।
তিনি চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, যারা দক্ষ, শিক্ষিত ও উদ্যোগী তাদের ক্ষুদ্র ঋণ দেওয়া হয় না। বরং অপেক্ষাকৃত কম শিক্ষিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে এই ঋণ দেওয়া হয়। কিন্তু তারা সঠিকভাবে ঋণের অর্থ কাজে লাগাতে পারে না। সাংসারিক কাজে খরচ করে ফেলে। অনেকে ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে সর্বস্ব হারিয়ে ফেলছেন। কেউ কেউ ঋণের বোঝা বইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন। এসব বিষয় বিবেচনা করলে সহজে অনুমেয় যে, ক্ষুদ্র ঋণ আসলে দরিদ্র বিমোচনে খুব বেশি ভূমিকা রাখতে পারেনি।
তবে ঋণের সুদ ও বিতরণ পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনলে কিছুটা ভাল হবে বলে মনে করেন তিনি।
খুব বেশি না হলেও দারিদ্র বিমোচনে ক্ষুদ্র ঋণ মোটামুটি ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম।
তিনি চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, এর মাধ্যমে কিছু লোক অবশ্যই উপকৃত হয়েছে। পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের- পিকেএসএফের উদ্বৃতি দিয়ে মির্জা আজিজুল বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের এক গবেষণায় দেখা গেছে কিছু কিছু ক্ষেত্রে মানুষ উপকৃত হযেছে।
২০০৭ সালে প্রকাশিত পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন, পিকেএসএফের সভাপতি ড. কাজী খলীকুজ্জমানের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৭ শতাংশ মানুষ দারিদ্র সীমার উপরে উঠতে পেরেছে। কেউ কেউ আবার পেছনে চলে গেছে।
ড. এবি মির্জা আজিজুল ইসলামের মতোই মনে করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিন।
তিনি চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, দারিদ্র বিমোচন নয়, দারিদ্র দূরীকরণে ক্ষুদ্র ঋণের ইতিবাচক প্রভাব আছে। তবে সংস্থাগুলোর ঋণের প্রচলিত সুদহার ও ঋণ বিতরণে পরিবর্তন আনতে হবে।

তিনি বলেন, সুদ হার কমাতে হবে। ঋণ দিতে হবে দক্ষ উদ্যোক্তাদের। এতে তারা উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সক্ষম হবে।








