স্টিভেন স্মিথ ক্যারিয়ারের শততম ওয়ানডে স্মরণীয় করতে পারলেন না বিরাট কোহলি আর কুলদীপ যাদবের জন্য। অন্যরা যখন রানের জন্য খাবি খেয়েছেন তখন কোহলি ১০৭ বলে ৯২ রান করে শিখিয়ে গেছেন কীভাবে এমন উইকেটে ব্যাট করতে হয়। পরে কুলদীপ তার হ্যাটট্রিকের অভ্যাস জাতীয় দলেও টেনে আনেন। দুজনের এমন দাপটের দিনে পাঁচ ম্যাচ সিরিজে দ্বিতীয় ম্যাচে ৫০ রানে হেরে গেছে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ম্যাচে তাদের হারতে হয়েছিল ২৬ রানে।
কুলদীপের পরিচয় দিতে গেলে হ্যাটট্রিক শব্দটি সবার আগে চলে আসে। প্রথম ভারতীয় বোলার হিসেবে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করেছিলেন। এবার তৃতীয় ভারতীয় হিসেবে জাতীয় দলের হয়ে হ্যাটট্রিক করলেন। তিনি এদিন ১০ ওভার হাত ঘুরিয়ে ৫৪ রান খরচ করে ৩ উইকেট নিয়েছেন। ১৯৮৭ সালে প্রথম ভারতীয় হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে হ্যাটট্রিক করেছিলেন চেতন শর্মা। চার বছর বাদে করেছিলেন কপিল দেব।
ইডেনে এদিন টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন কোহলি। এই নিয়ে টানা তিন ম্যাচে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়ক। যা তাকে খুব একটা করতে দেখা যায় না। অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর প্রথম ১৫ ম্যাচে একবার পরপর তিন ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করেছিলেন। অজি বোলারদের সামনে কোহলি আর ওপেনার রাহানে ছাড়া আর কেউ সেভাবে সুবিধা করতে পারেননি। ৬৪ বল খেলে ৫৫ রানে রাহানে রানআউট হওয়ার পর কোহলিই দলকে ২৫২ রানের সম্মানজনক স্কোর এনে দেন। ১০৭ বল খেলে ৩১তম শতক থেকে ৮ রান দূরে থামেন তিনি। বাকিদের মধ্যে সর্বোচ্চ রান কেদার যাদবের, ২৪। ভারতের সাবেক অধিনায়ক ধোনি ১০ বল খেলে ৫ রানে বিদায় নেন।
জবাব দিতে নেমে ভালোই লড়ছিল অস্ট্রেলিয়া। ক্যারিয়ারের শততম টেস্টে মাঠে নামা স্মিথ ৭৬ বল খেলে ৫৯ রান করে দলকে পথে রাখার চেষ্টা করেন। হার্দিকের বলে রবীন্দ্র জাদেজার হাতে তিনি ক্যাচ দিয়ে ফিরলে অস্ট্রেলিয়া ধীরে ধীরে চুপসে যায়। স্মিথ পঞ্চম অস্ট্রেলিয়ান যিনি শততম ওডিআইতে ৫০ কিংবা তার বেশি রান করলেন।
স্মিথের এমন লড়াই থই পায়নি মিডলর্ডারের ব্যর্থতায়। ১৩৮ রানে তুলতে ৫ উইকেট পড়েছিল। সেখান থেকে আর দশ রান যোগ করতেই ৮ উইকেট পড়ে যায়। কুলদীপ ১৪৮ রানের মাথায় একে একে তুলে নেন ম্যাথু ওয়েড (২) , অ্যাশটন অ্যাগার (০) এবং প্যাট কামিন্সকে (০)।
শেষ জুটিতে আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখেন মার্কাস স্টয়নিস। কেন রিচার্ডসনকে নিয়ে বেশি বেশি স্ট্রাইকে থেকে ২০০ পার করেন। নিজে তুলে নেন অর্ধশতক। ৪৪তম ওভারে কোহলি ধোনির সঙ্গে আলাপ করে ভুবনেশ্বরকে আক্রমণে আনেন। ভুবনেশ্বর প্রথম বলেই রিচার্ডসনকে (০) নিজের তৃতীয় শিকারে পরিণত করেন। আরেক প্রান্তে অসহায় চোখে দাঁড়িয়ে থাকেন ৬২ রান করা স্টয়নিস।










