‘আমি মনে করি এর বাইরের লোকদের জন্য ২০ কিংবা ৩০ পয়েন্টের ব্যবধানের চেয়ে তিন কিংবা ছয় পয়েন্ট ব্যবধান থাকা ভালো। এটি আরও উত্তেজনাপূর্ণ। তবে আমাদের কঠিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অনেক খেলায় জিততে হবে। এটি কঠিন কাজ হবে। আমরা চেষ্টা করবো।’
ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান কমিয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে শিরোপা জয়ের দৌড়ে চলে আসা নিয়ে গণমাধ্যমকে এভাবেই নিজের মনোভাবের কথা জানান লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ।
বুধবার রাতে অ্যানফিল্ডে লিডস ইউনাইটেডের বিপক্ষে ৬-০ গোলের বড় জয় পায় অলরেডরা। এই জয়ে টেবিলের শীর্ষে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান কমিয়ে তিনে নামিয়েছে ক্লপের শিষ্যরা।
২৬ ম্যাচে ১৮ জয় ও ৬ ড্রয়ে লিভারপুলের পয়েন্ট এখন ৬০। সমান ম্যাচ খেলে শীর্ষে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির ২০ জয় ও ৩ ড্রয়ে পয়েন্ট ৬৩।
লিডসকে ঘরের মাঠে উড়িয়ে দেয়ার ছক ভালোভাবেই কষেছিলেন ক্লপ। তার সঠিক দল নির্বাচন লিভারপুল প্রথমার্ধেই ৩-০ গোলের লিড নিয়ে আধিপত্য বিস্তার করে ফেলে। তার গেম প্ল্যানের কাছে প্রতিপক্ষ অসহায় হয়ে পড়েছিল। ফলে অ্যানফিল্ডে অলরেডদের হয়ে নিজের কোচিং ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় জয়ের স্বাদ পান ৫৪ বছর বয়সী এই জার্মান।
৪-৩-৩ ফরমেশনে দল সাজাতে পছন্দ করা ক্লপের আক্রমণভাগে সাদিও মানে ও মোহাম্মদ সালাহ যেকোনো দলের জন্যই ত্রাস হয়ে ওঠেন। তাদের যোগ্য সঙ্গ দিয়ে চলেছেন ২৫ বছর বয়সী লুইস দিয়াজ। সাধারণত বেঞ্চে থাকা ডিভক অরিগিও সুযোগ পেলেই দেখান ঝলক।
ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ফ্যাবিনহো কাজের কাজ ঠিকঠাক করছেন। স্প্যানিশ মিডফিল্ডার থিয়াগো তো কাজের কাজি আছেনই। রক্ষণ সেনানী হলেও জোয়েল মাতিপ, ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার আর্নল্ড, ভার্জিল ফন ডাইক আর জর্ডান হেন্ডারসনরা প্রয়োজনে উপরে উঠে এসেও দলের হয়ে রাখেন ভূমিকা।
বর্তমান বিশ্বের সেরা গোলরক্ষকদের অন্যতম অ্যালিসন বেকার পোস্টের সামনে দাঁড়ানোটাও লিভারপুলের নির্ভার থাকার বড় এক কারণ।
তারকা খচিত দল নিয়েও দলের সমন্বয়ের কাজটা ঠিকঠাক সামলে নিয়ে রসায়নটা জমিয়ে তুলেছেন ক্লপ। তার দলের প্রিমিয়ার লিগের ট্রফি ধরে উদযাপনের আশা করাটা তাই অমূলক নয়।








