ধুঁকতে থাকা বার্সেলোনাকে টেনে তুলেছিলেন তিনিই। প্রথমে খেলোয়াড় হিসেবে, পরে কোচ হয়ে। তার তৈরি ‘ড্রিমটিম’ই কাতালানদের জায়গা করে দেয় ইউরোপিয়ান ফুটবলে জায়ান্টদের কাতারে। সেই ইয়োহান ক্রুইফ ২০১৬ সালে পৃথিবীকে বিদায় জানিয়ে পরপারে পাড়ি জমালেও বার্সার স্মৃতির মণিকোঠায় থাকবেন অমর। ডাচ কিংবদন্তিকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে আরও উজ্জ্বলভাবে তুলে ধরতে তাই তার নামে স্টেডিয়াম তৈরি করল স্প্যানিশ জায়ান্টরা।
মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় ইয়োহান ক্রুইফ স্টেডিয়ামের। বার্সা অনূর্ধ্ব-১৯ এর সঙ্গে ডাচ কিংবদন্তির আরেক স্মৃতিবিজড়িত ক্লাব আয়াক্সের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে পথচলা শুরু হল ছয় হাজার আসনবিশিষ্ট স্টেডিয়ামটির। ক্যাটাগরি ‘থ্রি’ মানের এই মাঠটি ব্যবহার করবে বার্সার ‘বি’ ও নারী দল। ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় অনূর্ধ্ব-১৯ দলেরও ব্যবহার করার সুযোগ থাকছে এই স্টেডিয়ামটি।
উদ্বোধনের দিনে মাঠে উপস্থিত ছিলেন ক্রুইফের পরিবার। বর্তমান বার্সা দল থেকে এসেছিলেন লিওনেল মেসি, সার্জিও রবের্তো, সার্জিও বুস্কেটস, জেরার্ড পিকেদের মতো তারকারা। ছিলেন ক্রুইফের প্রিয় ড্রিমটিমের একাধিক সাবেক ফুটবলার। এর আগে সোমবার মাঠের সামনে উন্মোচন করা হয় ক্রুইফের একটি ভাস্কর্যও।
১৯৭৩ সালে আয়াক্স থেকে বার্সায় আসেন তখনকার ফুটবল বিশ্বে অন্যতম সেরা তারকা ক্রুইফ। পাঁচবছরের ক্যারিয়ারে ১৪৩ ম্যাচে করেন ৪৮ গোল। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে প্রিয় ক্লাবের কোচ হয়ে ফেরেন ক্রুইফ। ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত কোচিং করিয়ে ক্লাবকে এনে দেন প্রথমবারের মতো ইউরোপ সেরার ট্রফি। তার হাত ধরেই ফুটবল বিশ্বে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে টোটাল ফুটবল। যা পরবর্তীতে পেপ গার্দিওলার হাত ধরে রূপ নেয় টিকিটাকায়। গার্দিওলা নিজেও ছিলেন ড্রিমটিমের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। পরে টিকিটাকা কাজে লাগিয়ে কোচ হিসেবে বার্সাকে জেতান দুই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা।







