এদেশের ক্রীড়াঙ্গন তাকে চিনেছিলো বিপিএল ক্রিকেট দিয়ে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের প্রথম দুই আসরে দুরন্ত রাজশাহীর ডাগআউটের পরিচিত এক মুখ ছিলেন মুশফিকুর রহমান মোহন। কিন্তু সেই মোহনই তৃতীয় বিপিএলটায় যেনো পুরোপুরি দর্শক বনে গেলেন। একই সঙ্গে তিনি ছেড়ে দিয়েছেন ঘরোয়া ক্রিকেট লিগের দায়িত্বও। শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের স্পোর্টস ডিরেক্টর ও ক্রিকেট চেয়ারম্যান থেকে পদত্যাগ করে মুশফিকুর রহমান মোহন এখন বাংলাদেশ ব্রিজ ফেডারেশনের সভাপতি।
ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে বিপিএলের আগের আসরগুলোর লেনদেন এবং আরও কিছু ঝামেলায় কারণে গেলো বিপিএলে অংশ নেয়নি রাজশাহীর কোন ফ্র্যঞ্চাইজি। মিরপুরে বাংলাদেশে ক্রিকেট বোর্ডেও এখন আর দেখা যায়না ক্রীড়া সংগঠক মোহনকে। তার পেছনে কি কারণ…? কেনই বা তিনি সরে গেলেন ক্রিকেট থেকে। এসব প্রশ্ন করতেই দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন পরিচিত এই ক্রীড়া সংগঠক।
চ্যানেল আই অনলাইনকে মুশফিকুর রহমান মোহান বলেন ক্রিকেট থেকে সরে গিয়ে আমি মোটেও কোন ভুল করিনি। সেখানকার অনেক জটিল বিষয়গুলো আসলে আমি বুঝতে পারি নি। বুঝার চেষ্টাও আর করিনি। বলতে পারেন এখন আমি অনেক ভালো আছি। বাংলাদেশ ব্রিজ ফেডারেশন নিয়ে কাজ করছি আর কবিতা লিখছি। আশা করছি সামনে আপনারা আমার একাধিক কবিতার বই হাতে পাবেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান এমপির সঙ্গে তার সম্পর্ক কেমন। এই প্রশ্নে তিনি ‘ভালোই’- উল্লেখ করে বলেন, পাপন সাহেবের শুরুর দিন আমি কি করেছিলাম তা গণমাধ্যমের কাছে রয়েছে। এক রাতে আমি পুরো বিসিবি সাজিয়ে নিয়েছিলাম নিজেদের মতো করে। কিন্তু আজ সভাপতির কান ভারি করার লোকের অভাব নেই। আমার বিপক্ষেও অনেক আজে বাজে কথাবার্তা হয়েছে। যা হোক আমি এতে বিচলিত নই। বরং সাহিত্য চর্চা, ব্রিজ খেলা আর রাজনীতি নিয়ে আমি ভালোই আছি। আর ভাগ্যের কথা কেউই আগাম বলতে পারে না। কপালে থাকলে আগামী নির্বাচনে আমি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন পাবো ইনশাল্লাহ। সে সময় সুযোগ পেলে দেশের ক্রীড়া ক্ষেত্রে নতুনভাবেই কাজ করার স্বপ্ন দেখি।
ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে মুশফিকুর রহমান মোহনের পরিচিত দীর্ঘ দিনের। বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় ক্রীড়া সম্পাদকের দায়িত্ব পালন দিয়ে শুরু করেন। এরপর বাংলাদেশ চেস ফেডারেশনের কার্যকরী পরিষদের সদস্য, বাংলাদেশ স্কোয়াশ ফেডারেশনের সভাপতি, শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্রিকেট ক্লাবের স্পোর্টস ডিরেক্টর ও ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান এবং সবশেষে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ বিপিএলের দল দুরন্ত রাজশাহীর চেয়ারম্যান হন মুশফিকুর রহমান মোহন।
শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের ক্রিকেট কমিটির দায়িত্ব ছাড়ার পেছনে নিজের আপোষহীন চরিত্রের কথা উল্লেখ করে মোহন বলেন, আমার ইচ্ছা ছিলো একজন তরুণকে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব দেওয়া, আমি তুষার ইমরানকে (সাবেক জাতীয় দলের ক্রিকেটার) ওই সিজনে অধিনায়ক করতে আপত্তি জানিয়েছিলাম। মূলত এটি নিয়েই ক্লাবের সাথে আমার আর এক সুতোয় কাজ করা হচ্ছিলো না। তাই সরে গিয়ে ঝামেলা নিরসন করেছি বলেই মনে করি।







