ছোট শহর, এমনকি মফস্বলের তুলনায়ও বাংলাদেশের ক্রিকেটে ঢাকার ছেলেদের দাপট কম। গত দুই বছরে টেস্টে ১৩ জনের অভিষেক হয়েছে। তার মধ্যে ঢাকা থেকে মাত্র একজন, তাসকিন আহমেদ!
মাশরাফি, সাকিব, মোস্তাফিজ, রুবেল, সৌম্য, ইমরুল, এনামুল- দেশের ক্রিকেটে সময়ের শীর্ষ এই নামগুলো ‘খুলনাইয়া’। সাবেকদের ক্ষেত্রেও তালিকাটা লম্বা। কিন্তু ঢাকার ছেলে বলতে ওই তাসকিন, আরাফাত সানি আর শাহরিয়ার নাফিস। শাহরিয়ার নাফিস দীর্ঘদিন দলের বাইরে।
কিন্তু একটা সময় ছিল যখন ঢাকার বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার জাতীয় দলে খেলেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন রকিবুল হাসান, জালাল আহমেদ চৌধুরী, জাহাঙ্গীর শাহ বাদশাহ, ইউসুফ রহমান। তাদের পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে রয়েছেন মেহরাব হোসেন, জাভেদ ওমর, মোহাম্মদ আশরাফুল।
শুধু জাতীয় দলের ক্ষেত্রে ঢাকার ছেলেদের এখন করুণ দশা নয়। ঘরোয়া ক্রিকেটেও একই অবস্থা। দেশের শীর্ষস্থানীয় লিগে রাজধানীর তুলনায় মফস্বলের ক্রিকেটাররাই বেশি খেলছেন। অথচ ১০ বছর আগেও চিত্রটা ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত।
বাংলাদেশ দিনকে দিন ক্রিকেটে ভালো করায় অন্যান্য বিভাগীয় শহরগুলোয় ক্রিকেট একাডেমির কদর বাড়ছে। গ্রাম থেকেও ছেলেরা শহরে আসছে ড্রাইভ-স্কয়ারকাট শিখতে। অন্যদিকে হাতের কাছে উন্নত সুযোগ-সুবিধা পেয়েও প্রতিযোগিতায় ছিটকে যাচ্ছে রাজধানীর ছেলেরা।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) মফস্বল এবং ছোট শহরগুলোতে গুরুত্ব দেওয়ায় সেখান থেকে মোস্তাফিজদের মতো ছেলেরা উঠে আসতে পারছেন। বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির সঙ্গে ক্রিকেটার খোঁজার কাজে সাহায্য করে বেশ কয়েকটি ইউনিট।
গত দশ বছরে ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম দেশের প্রত্যেক জেলায় পৌঁছে গেছে। বয়স নির্বাচন আর ডাক্তারি পরীক্ষার পর বাছাইকৃতদের নিয়ে ম্যাটের উইকেটে আন্তঃজেলা টুর্নামেন্টে খেলানো হয়। সেখান থেকে যারা নজরকাড়েন ধাপে ধাপে বয়স ভিত্তিক দলে চলে আসেন।
এ প্রক্রিয়া শেষ করা গ্রামের ছেলে কিংবা মেয়েদের জন্য অতটা সহজ নয়, যতটা সহজ ঢাকাবাসীর জন্য।
ঢাকার ক্রিকেটের এই বেহালদশার কারণ খুঁজতে যেয়ে আশরাফুল-নাফিসের মেন্টর বলে পরিচিত কোচ ওয়াহিদুল গনি সামনে আনছেন কমিটমেন্টকে, ‘আমার মনে হয় ঢাকার ক্রিকেটারদের কমিটমেন্টের অভাব বেশি। ব্যাট/বল হাতে গ্রাম থেকে আসা একটি ছেলের চোখে যে আগুন থাকে, তা শহরের খুব কম ছেলের চোখে পাওয়া যায়।’
‘তবে অন্যদিকটাও আমাদের দেখতে হবে। ঢাকায় খেলাধুলা করার মতো মাঠের অভাব আছে। যেগুলো পাওয়া যায় সেখানে ভিড় বেশি। একাডেমি চালাতে গেলে অনেক খরচ পড়ে যায়। আর সব একাডেমিতে ভালো মানের কোচও নেই।’ বলেন ওয়াহিদুল গনি।








