জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় শাহাদত হোসেনের বিরুদ্ধে শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা হয়েছে। শাহাদতকে গ্রেফতারের জন্য খুঁজছে পুলিশ। মামলার অপর আসামী শাহাদত হোসেনের স্ত্রী নিত্য শাহাদত।
নির্যাতিত গৃহকর্মীর নাম মাকছুদা আকতার হ্যাপি (১১)।
রোববার রাত সাড়ে দশটায় মিরপুর থানায় মামলা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
মিরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শফিকুর রহমান মামলার বিষয়টি চ্যানেল আই অনলাইনকে নিশ্চিত করে বলেন, সাংবাদিক খন্দকার মোজাম্মেল হক বাদি হয়ে মামলাটি করেছেন। মামলায় দুইজনকে আসামী করা হয়েছে। যে কোনো সময় আসামীদের গ্রেফতার করা হবে, এ জন্য অভিযান চলছে।
তিনি আরো বলেন, মেয়েটিকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়েছে।
মামলার বাদী সাংবাদিক মোজাম্মেল হক বলেন, সন্ধা ৭টার সময় মিরপুরে সাংবাদিক কলোনিতে আহত মেয়েটিকে তার শরীরে বিভিন্ন জায়গায় জখমের দাগ দেখতে পেয়ে থানায় নিয়ে আসি।পরে নিজে বাদী হয়ে মামলা করি।
তিনি আরো বলেন, পুলিশ মেয়েটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
রাতে ঢাকা মেডিকেলে গিয়ে দেখা গেছে, আহত হ্যাপিকে ডাক্তাররা চিকিৎসা দিচ্ছেন। তার মুখের বাম পাশ ফুলে গেছে। একটা চোখে মারাত্মক জখম, মাথার বাম পাশে আঘাতের দাগ। বাম পায়ের পাতার একটি হাড় ভেঙ্গে পায়ের পাতা ফুলে আছে।
তাকে নিউরো সার্জারি ইউনিট-২ এ ভর্তি করা হয়েছে।
গৃহকর্মী মাকছুদা আকতার হ্যাপি বলে, তাকে প্রায়ই মারধর করা হতো। তবে রোববার শাহাদত ও তার স্ত্রী বেশি মেরেছে।
ঢাকা মেডিকেলের কর্তব্যরত ডাক্তার কাজী আবু সাইদ বলেন, আঘাত মাথার বাম পাশে বেশি, তবে খুব গুরুতর নয়। যদি মস্তিস্কে বেশি রক্তক্ষরণ হতো তবে ভয়ের ছিল। সে রকম কিছু ঘটে নাই। তবে পায়ের পাতার হাড়টি ভেঙ্গে গেছে।
ওই এলাকার বাসিন্দা ইফতি মাহবুব চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, মিরপুর সাংবাদিক প্লটের রাস্তায় মেয়েটিকে অনেকক্ষণ ধরে ঘোরাফেরা করতে দেখি। এরপর মেয়েটির চোখে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়ে তারা এগিয়ে যান। তখন মেয়েটির কাছে জানতে চাইলে সে বলে, জাতীয় দলের ক্রিকেটার শাহাদত হোসেনের বাসায় কাজ করে সে। শাহাদাত হোসেন ও তার স্ত্রী নিত্য দুইজনই তাকে খুন্তি দিয়ে নির্যাতন করেছেন বলে মেয়েটি জানায়।







