আফগানিস্তান এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ সামনে রেখে মিরপুরে ক্যাম্প শুরু করেছে বাংলাদেশ। রোববার আনুষ্ঠানিক ক্যাম্প শুরুর আগেই অবশ্য তামিম, মাহমুদউল্লাহ, মাশরাফী মুশফিকরা ফিটনেস নিয়ে কাজ করেছেন। ফিটনেস ট্রেনার মারিও ভিল্লাভারায়নের কাছে সবচেয়ে আনন্দদায়ক ব্যাপারও মনে হচ্ছে এটি, ক্রিকেটাররা নিজেদের প্রতি আগের চেয়ে অনেক বেশি যত্নবান।
ভিল্লাভারায়ন বাংলাদেশ দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন ২০১৪ সালের মে মাসে। সামনের ব্যস্ত সূচির আগে যখন আরেকটি ক্যাম্প শুরু করলেন, তখন তার চোখে-মুখে অন্যরকম প্রশান্তি। চার বছরে ক্রিকেটারদের মানসিকতা ও ফিটনেসে যে পরিবর্তন এসেছ তাতে আনন্দে বুক ভরে যায় এ লঙ্কানের।
ফিটনেস ট্রেনিংয়ের প্রথমদিন মারিওর অধীনে বিপ টেস্ট দিয়েছেন ক্রিকেটাররা। দুপুরে মিরপুরে যখন ঝুম বৃষ্টি, তখন ইনডোরে একে একে ফিটনেসের পরীক্ষা দিচ্ছেন ২৯ ক্রিকেটার। দিনের কাজ শেষ করে স্টেডিয়াম ছাড়ার সময় সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মারিও জানালেন সেসব কথাই।
‘ক্রিকেটারদের মাঝে বিশাল পরিবর্তন এসেছে। আজকে সকালেই ছেলেদের বলছিলাম, চার বছর হয়ে গেল। ২০১৪ সালের মে মাসে এসেছিলাম। দারুণ চারটি বছর কাটল। অনেক বদল এসেছে। কলম্বোতে ছুটি কাটানোর সময় জানতে পারলাম, তামিম নিজের তাগিদেই ফিটনেস ট্রেনিং করছে। আরও অনেকেই নিজে থেকে করছে। এসব আমাকে দারুণ উদ্বেলিত করেছে।’
‘আমি যখন এখানে এসেছিলাম, ঠিক এমনটিই চেয়েছিলাম। চেয়েছিলাম, মূল দায়িত্বটি ক্রিকেটারদেরই নিতে হবে এবং নিজের তাগিদে ফিটনেস ট্রেনিংয়ের অভ্যাস গড়তে হবে। সেই কারণেই বলছি, ছেলেদের মানসিকতায় অনেক উন্নতি হয়েছে।’ -যোগ করেন মারিও।

চার বছর আগের মাশরাফী-তামিম-মাহমুদউল্লাহর ছবির সঙ্গে বর্তমানের ছবি মেলালে স্পষ্ট হবে অনেককিছু। ক্রিকেটারদের ফিটনেস ঠিক করতে অনেক ঘামই ঝরাতে হয়েছে মারিওকে, ‘শুরুতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে আমাকে। ওদেরকে বোঝাতে হয়েছে কেন এটা খুব জরুরি। সেই পরিশ্রমের ফল মিলতে শুরু করেছে। সবাই এখন অনেক সচেতন। আমি তো আজীবন এখানে থাকব না। আশা করি, আমি চলে যাওয়ার পরও ওরা এমনই থাকবে।’
ফিটনেস প্রমাণের চ্যালেঞ্জে বিপ টেস্টে ২৯ ক্রিকেটারের মধ্যে সর্বোচ্চ দমের রিডিং মেহেদী হাসান মিরাজের। ১২.৫ নিয়ে সবার শীর্ষে এ অলরাউন্ডার। তার পরেই আছেন মুশফিকুর রহিম, সৌম্য সরকার ও সাব্বির রহমান ১২.১! ১২.০ নিয়ে তাদের পেছনে মুমিনুল হক ও নাঈম হাসান। দশের নিচে রিডিং তিন ক্রিকেটারের। তারা রুবেল হোসেন, আব্দুর রাজ্জাক ও তামিম ইকবাল।
তামিমের ৯.১৪ ও রাজ্জাকের ৯.৪! অন্যদিকে রুবেলের বিপের মাত্রা ৮.২, ক্যাম্পে থাকাদের মধ্যে যা সবচেয়ে কম। সাধারণত ট্রেনাররা ১০ মাত্রাকে স্ট্যান্ডার্ড মনে করেন। পেসার রুবেলের এতটা নিচে বলে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। জানা গেছে হার্টে অক্সিজেন সঞ্চালনের পরিমাণ বেশ কমে গেছে। তাই দৌড়াতে গিয়ে দ্রুত দম ফুরিয়ে আসছে তার। কিছুদিন আগেই অসুস্থ ছিলেন রুবেল। শঙ্কা ছিল জন্ডিসেরও। কিন্তু শেষপর্যন্ত রক্ষা পেয়েছেন। জ্বর ও দুর্বলতা দিয়ে সেরেছে বড় বিপদ। এখন নিয়মিত ট্রেনিং, খাওয়া দাওয়া ঠিকভাবে করলেই ফিট হয়ে যাবেন আগের মত।







