সাউথ আফ্রিকার হয়ে মাঠে নামেন না প্রায় দুবছর। বিশ্বের প্রায় সব ফ্র্যাঞ্চাইজি আসরে দাপিয়ে বেড়ালেও মিলছিল না সুযোগ। প্রোটিয়া অলরাউন্ডার ক্রিস মরিস এবার তুলে রাখলেন ব্যাট-প্যাড। জানালেন, ফ্র্যাঞ্চাইজি কিংবা জাতীয় দল, বাইশ গজের খেলায় আর দেখা যাবে না তাকে।
নিজের ইন্সটাগ্রাম অ্যাকাউন্টে অবসর ঘোষণা জানিয়ে ৩৪ বর্ষী মরিস লেখেন, ‘আমার সফরে ছোট বা বড়, যারা এতটুকুও অবদান রেখেছেন—তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। সফরটা খুব সুন্দর ছিল।’
ডানহাতি অলরাউন্ডার ব্যাটসম্যান প্রোটিয়া জার্সিতে নেমেছিলেন ২০১৯ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপে। হয়েছিলেন সাউথ আফ্রিকানদের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। এরপর থেকেই ব্রাত্য হয়ে পড়েন মরিস। ২০১২ সালের ডিসেম্বরে টি-টোয়েন্টিতে তার অভিষেক হয়। পরের বছর জুনে সুযোগ পান একদিনের ক্রিকেটে। তবে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে প্রোটিয়াদের হয়ে খেলতে অনেক অপেক্ষা করতে হয়েছে মরিসকে।
ওয়ানডে অভিষেকের তিন বছর পর ২০১৬ সালে সাউথ আফ্রিকার হয়ে নামতে পারেন মরিস। তবে খেলেছিলেন মোটে চারটি টেস্ট। প্রোটিয়া জার্সিতে সব মিলিয়ে ৬৯ ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন লোয়ার অর্ডারে দ্রুত রান তোলায় পারদর্শী এ ব্যাটার। শিকার করেছেন ৯৪ উইকেট। ব্যাট হাতে করেন ৭৭৩ রান। লাল বলের ক্রিকেটে ১২ উইকেটের পাশাপাশি করেন ১৭৩ রান। ৪২ ওয়ানডেতে ৪৬৭ রান ও ৪৮ উইকেট। ২৩ টি-টোয়েন্টিতে ৩৪ উইকেট এবং ১৩৩ রান মরিসের। ব্যাট করেছেন ১৩০.৩৯ স্টাইকরেটে!
লোয়ার অর্ডারে তার দ্রুত রান তোলা বা ম্যাচের পরিস্থিতি পরিবর্তন করা অলরাউন্ডার পারফর্ম দারুণ খ্যাতি জুগিয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টগুলোতে বেশ চাহিদাও ছিল তার। অন্যতম কার্যকরী অলরাউন্ডারকে পেতে মুখিয়ে থাকত প্রায় সব দল। আইপিএল ইতিহাসে তার পারিশ্রমিক রেকর্ডগড়া।
অলরাউন্ডিং পারফর্মে মুগ্ধতা ছড়ানো মরিস খেলেছেন প্রায় প্রতিটি দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি আসরে। ভারতের আইপিএল হয়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও অস্ট্রেলিয়ার সীমিত ওভারের টুর্নামেন্টগুলো। দুর্দান্ত পারফর্মে নিজেকে নিয়েছেন চাহিদার শীর্ষে। গত মৌসুমে রেকর্ড ১৬ কোটি ২৫ লক্ষ টাকায় তাকে টানেন আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি রাজস্থান রয়্যালস।
এক যুগের ক্যারিয়ার সমাপ্তি ঘোষণার দিনে মরিস জানিয়েছেন, আগামীতে কোচিং করানোর কথা। দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া দল টাইটান্সের হয়ে কোচিংয়ে জীবনের নতুন ইনিংস শুরু করবেন প্রোটিয়া বিধ্বংসী ব্যাটার।







