সায়রা রহমান শিউলী একজন সংগীতশিল্পী ও শিক্ষক। কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমির আড্ডা শিউলীর গানে মুখরিত হয়ে থাকতো একসময়। তবে তিনি বুঝতেই পারেনি প্রাণঘাতি ক্যান্সার বাসা বেঁধেছে তার শরীরে।
প্রথম ব্রেস্ট ক্যান্সারের অস্তিত্ব ধরা পড়ে ২০১৩ সালের অক্টোবরে। নভেম্বরে চট্টগ্রামের সিএসসিআরএ করা হয় ব্যয়বহুল অপারেশন।
স্বস্তির নিঃম্বাস ফেলে শিউলীসহ সবাই। কিছুদিন পর প্রচন্ড ব্যথায় অস্থির হয়ে পড়ে সে। ব্যাথা হচ্ছে হাড়ে। আবারও লক্ষ টাকা ব্যয় করে তার ক্যানসার পরীক্ষা করা হলো। এবার ক্যানসার পাওয়া গেল পাঁজরের হাড়ে। শিউলীকে ভর্তি করা হলো মহাখালী ক্যানসার নিরাময় কেন্দ্রে। সেখানে কেমো দেওয়া হয় এবং রেডিও থেরাপি করা হয়। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ভারতের মুম্বাইয়ের টাটা মেমোরিয়েল হাসপাতালে। সেখানে দু’মাস চিকিৎসা করা হয়। এর মধ্যে খরচ হয়ে গেছে প্রায় বিশ লক্ষ টাকা।
আদরের বোনের জন্য ভাইদের প্রায় দেউলিয়া হওয়ার অবস্থা। বিক্রি করতে হয় জমি। মুম্বাইয়ে কিছুটা সুস্থ অনুভব হওয়ায় শিউলী দেশে ফিরে আসে। কিন্তু কিছু দিন না যেতেই আবার প্রচন্ড হাড়ের ব্যথা। এবার ক্যানসার পাওয়া যায় সমস্ত শরীরে। হতাশ হয়েই তাকে দেশে ফিরতে হয় মুম্বাই থেকে। দু’সন্তানের মা তবুও হাল ছাড়েনি নি শিউলি। ক্যানসারের সঙ্গে একরকম যুদ্ধ করছেন তিনি। বর্তমান ওষুধ আর থেরাপির কারণে ক্যানসারের মাত্রা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে।







