প্রথম দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ ঘরে নিয়েছে ইংল্যান্ড। সাউথ আফ্রিকাকে লজ্জায় ডোবানোর উপলক্ষ ছিল তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে। তাতে উল্টো ইংলিশদের গুঁড়িয়ে দিয়ে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে প্রোটিয়ারা। মরগ্যানের দলকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে ডি ভিলিয়ার্সের দল।
আফ্রিকানদের জন্য অনেক প্রাপ্তির ম্যাচ এটি। লর্ডসে প্রথমবার ওয়ানডে জিতল তারা, আমলা দ্রুততম ৭ হাজার রানের রেকর্ডের পথে কোহলিকে পেছনে ফেললেন, ভিলিয়ার্স অধিনায়ক হিসেবে শততম ম্যাচে নামলেন-জিতলেন, আর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে আত্মবিশ্বাসের রসদ পেল শিরোপার দাবি নিয়ে আসা প্রোটিয়ারা।
লর্ডসে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে ২০ রানেই ইংল্যান্ডের ৬ উইকেট তুলে নিয়ে রীতিমত লজ্জার পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল সফরকারী আফ্রিকা। কাগিসো রাবাদা ও ওয়েন পারনেলের তোপের সামনে কেঁপেছে ইংলিশ ব্যাটিং। রাবাদা শুরুতে ৫ ওভারে ১৮ রানে ৪ উইকেট তুলে নেন। সঙ্গী পারনেল নেন ৪ ওভারে ২০ রানে ২ উইকেট। পরে আরো একটি উইকেট নিয়েছেন পারনেল। রাবাদা ৯ ওভার করলেও আর উইকেট পাননি। বাকি তিনটি উইকেট কেশব মহারাজের।
শুরুর ধাক্কা সামলে নিয়ে ফিফটি করেছেন জনি বেয়ারস্টো (৫১)। ডেভিড উইলির ২৬ ও রোল্যাল্ড জোন্সের অপরাজিত ৩৭ রানে মান বাঁচানো ১৫৩ করে ইংল্যান্ড। তারা অলআউট হওয়ার আগে খেলেছে মাত্র ৩১.১ ওভার। তাদের টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা টেলিফোন ডিজিট লিখে সাজঘরে ফিরেছেন- জেসন রয় ৪, অ্যালেক্স হেলস ১, জো রুট ২, অধিনায়ক মরগান ৮, জস বাটলার ৪ ও আদিল রশিদ শূন্য রানে।
জবাব দিতে নেমে ৩ উইকেট হারিয়ে ২৮.৫ ওভারে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় প্রোটিয়ারা। হাশিম আমলা-কুইন্টন ডি কক ওপেনিং জুটিতে ৯৫ রান যোগ করেন। সহজ লক্ষ্য আরো সহজ হয় তাতে। পরে ছয় রানের মধ্যে আমলা ৫৫, ডি কক ৩৪ ও ডু প্লেসিস ৫ রানে ফিরে গেলেও সমস্যা হয়নি। জেপি ডুমিনি ২৮ ও এবি ডি ভিলিয়ার্স ২৭ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচ শেষ করে ফেরেন। তারা অবিচ্ছিন্ন চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৫৫ রান যোগ করেন।

এই পথে ওয়ানডেতে সবচেয়ে কম ইনিংসে ৭ হাজার রানের মাইলফলকে পৌঁছান আমলা। আফ্রিকান এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ভেঙেছেন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলির রেকর্ড। তিনি রেকর্ডে নাম লেখাতে সাত হাজার রান টপকালেন ১৫০ ইনিংসে। গত বছরের জানুয়ারিতে ১৬১ ইনিংসে এই মাইলফলকে পৌঁছে রেকর্ড গড়েছিলেন কোহলি। সোমবারের ম্যাচে ২৩ রান করা সময়ই রেকর্ডটি আমলার হয়ে যায়।
আমলা হাজার রানে পৌঁছানোর সময়ই কেবল রেকর্ড গড়তে পারেননি। পরে দুই হাজার থেকে সাত হাজার, প্রতিটি মাইলফলকেই সবচেয়ে কম ইনিংস খেলে পা রাখলেন। কম ইনিংসে ছয় হাজার রানের পথে কোহলিকেই, দ্রুততম পাঁচ হাজার রানের পথে কোহলি ও ভিভ রিচার্ডসকে; আর দ্রুত তিন ও চার হাজার রানের রেকর্ড করার পথে আমলা টপকেছিলেন রিচার্ডসকেই। এখন সবচেয়ে কম ইনিংসে আট হাজার রানের মাইলফলকে পা রাখতে সতীর্থ এবি ডি ভিলিয়ার্সের (১৮২ ইনিংস) থেকে রেকর্ড কাড়তে হবে আমলাকে।










