ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র ১০নং মহাবিপদ সংকেতের পর এখনও পর্যন্ত সারাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে এসেছেন বলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া মানুষজন বলছেন, ঘূর্ণিঝড় মোরা’র ১০নং মহাবিপদ সংকেতের খবর মাইকে প্রচার করার পর তারা গবাদি পশু ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে এসেছে। এখানে তারা নিজেদের নিরাপদ মনে করছে।
আশ্রয় নেয়া এসব অসহায় মানুষদের প্রয়োজনীয় খাবারের ব্যবস্থা সহ নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করছে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন।
উপকূলীয় ১৯ জেলার মধ্যে দশটি জেলাকে এই ঝড়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রতিটি এলাকায় মাইকিং করে সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বলা হচ্ছে।
ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ মোকাবিলায় চট্টগ্রাম বিভাগে ১ হাজার ১১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ৪৭৯টি, কক্সবাজারে ৫৩৮টি, লক্ষ্মীপুরের ১০২টি, বাগেরহাটে ২২৭টি, বরগুনায় ৩৩৫টি, নোয়াখালীতে ৪১২টি ও ফেনীতে ৪৪টি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। বরিশাল বিভাগের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
উত্তর-পূর্ব দিকে এগিয়ে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ‘ঘূর্ণিঝড় মোরা’ প্রবল ঝড়ে রূপ নেয়। ঘূর্ণিঝড় মোরা’র প্রভাবে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখানো হয়। এছাড়া মংলা ও পায়রা বন্দরের জন্য ৮ নম্বর মহা বিপদ সংকেত দেয়া হয়।
মঙ্গলবার সকাল নাগাদ ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূল দিয়ে বাংলাদেশ অতিক্রম করবে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, প্রবল ঝড়ে রূপ নেয়ায় ঘূর্ণিঝড় মোরার কেন্দ্রে বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৮৯ থেকে ১শ ১৭ কিলোমিটার পর্যন্ত বেগে বয়ে যেতে পারে।
‘মেঘনা-মোহনা হয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূল দিয়ে হাতিয়া-সন্দ্বীপ-কুতবদিয়া হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করবে। এর প্রভাবে সারাদেশে ঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টি হবে।’
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করে কর্মস্থলে যোগদানের জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।








