প্রতিবছর কোরবানির পর কোরবানির বর্জ্য একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়। গত কয়েকবছর হলো সিটি কর্পোরেশনের বিশেষ কিছু উদ্যোগের কারণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বেশ উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, এবছরও সেই ধারা বজায় আছে। এ বছর বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রায় ২১ হাজার পরিচ্ছন্ন কর্মী কাজ করছে।
আগে থেকেই ঘোষণা ছিল ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রাজধানীতে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ করা হবে। সেই অনুযায়ী বুধবার দুপুর ২টা থেকে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ শুরু করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। প্রায় সারারাত ধরে চলে বর্জ্য অপসারণের কাজ। মোটামুটি সফলতার সঙ্গে তারা তাদের কাজ শেষ করতে পেরেছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে।
নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানির ধারা মাত্র ১/২ বছর কার্যকর হলেও এ বছর যত্রতত্র কোরবানি করতে দেখা গেছে রাজধানীবাসীকে। কোরবানির পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দায় শুধুমাত্র সিটি কর্পোরেশনের, এমন একটা ধারণা কেন জানি জনমনে স্থায়ী হয়ে গেছে। যেখানে সেখানে যে বর্জ্যই ফেলা হোক না কেন তা সিটি কর্পোরেশন তুলে নেবেই, এমন ধারণা থেকে এবার কোরবানিকৃত পশুর ভূড়ির ভেতরের ময়লাও অপরিকল্পিতভাবে ডাস্টবিন ও বর্জ্য ফেলার স্থানে ফেলতে দেখা গেছে। সন্দেহ নেই বিষয়টি নিশ্চিত অর্থে পরিচ্ছন্ন কর্মীদের কাজকে কঠিন করে তুলেছিল। তারপরেও সিটি কর্পোরেশনের নানা পদক্ষেপে অবস্থা বেশ ভালোভাবেই সামাল দেয়া গেছে। এজন্য অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার সিটি কর্পোরেশন ও পরিচ্ছন্ন কর্মীরা।
যত্রতত্র কোরবানি করার অভ্যাস ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা আলোচনা-ক্ষোভ দেখা যায় প্রতিবছরই। অনেকেই সৌদি আরব, মালয়েশিয়ার মতো ইসলামিক রাষ্ট্রগুলোর কোরবানি করার পন্থা উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। এ বছর একাধিক গণমাধ্যমে সবেচেয়ে বড় মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়ার সুশৃঙ্খল কোরবানি পদ্ধতির খবর দেখা গেছে। সেসব দেশে নির্দিষ্ট স্থান কোরবানি করা বাধ্যতামূলক ও না মানলে সাজা নিশ্চিত। অনেকে হজের পরে কোরবানির উদাহরণ টেনে ও কোরবানির মাহাত্মের বিষয়ও আলোচনা করেছেন।
হজের পরে হাজিরা যে কোরবানি দেন, তা সৌদি কর্তৃপক্ষকে সামাল দিতে হয়। হাজীরা তাদের কোরবানির নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিয়ে দেন, কোরবানি পশু কেনা, কোরবানি করা ও গোশত বিতরণের সব দায়িত্ব থাকে কর্তৃপক্ষের, হাজীরা তাদের পশুর চেহারাও দেখতে পান না। বাংলাদেশে হয়তো এটা কখনই সম্ভব হবে না, কিন্তু নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানির পশু জবাই ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নির্দিষ্ট স্থান-রীতির বিষয়টি মানতে নিশ্চয় সমস্যা নেই?
ধর্মীয় রীতি থেকে কোরবানি অবশ্যই করতে হবে, আর সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নগরের প্রতিটি নাগরিককে একটি নির্দিষ্ট রীতিতে আসতে হবে বলে আমরা মনে করি। কারণ, ধর্মমতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। আমাদের আশাবাদ, সামনের বছরগুলোতে যত্রতত্র কোরবানি করে পরিবেশ নষ্ট করে ঈমান নষ্টের ঝুঁকিতে কেউ যাবে না।








