পঁচাত্তরে সপরিবার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যার পর ওই হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ার কলঙ্ক দীর্ঘ ৩৫ বছর বয়ে বেড়াতে হয়েছিল বাঙালি জাতিকে। ২০১০ সালে পাঁচ খুনি ফারুক রহমান ও সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, বজলুল হুদা, মহিউদ্দিন আহমেদ এবং একেএম মহিউদ্দিনের ফাঁসির রায় কার্যকরের পর সেই কলঙ্ক কিছুটা হলেও মোচন হয়েছিল। সব খুনির ফাঁসি কার্যকর করতে না পারায় সেই অভিশাপ থেকে এখনো পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেনি জাতি।
পঁচাত্তরের সেই নৃশংসতার পথ ধরে ২০০৪ সালে উপস্থিত হয় আরেক কালো অধ্যায়। সেই বছরের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী শোভাযাত্রায় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। যে হামলায় নিহত হন ২৪ জন। আহত হন কয়েকশো মানুষ।
১৪ বছর আগের সেই ঘটনায়ে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত রায় হয়েছে। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় সেই সময়ের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনের। এর বাইরে আরো ১১ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দিয়েছেন ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন।
এই রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের অার্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট বদলে দেওয়ার হীন চক্রান্তকারীদের সাজা হয়েছে। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে যার অপেক্ষায় ছিল জাতি। কেননা এই রায়ে দেশের রাজনীতিতে সেই কালো অধ্যায়ের যে কলঙ্ক তা মোচন হয়েছে বলে আমরা মনে করি।
এমন নৃশংস ঘটনার রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত তো বলেই দিয়েছেন, ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শূন্য করার প্রচেষ্টা চালানো হয়। শুধু তাই নয়, আদালত প্রশ্ন রেখে বলেছেন; রাজনীতি মানেই কি বিরোধী দলের ওপর পৈশাচিক আক্রমণ?
রায়ে বারবার উঠে এসেছে তৎকালীন সরকার কীভাবে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে প্রকাশ্য দিবালোকে যুদ্ধে ব্যবহৃত মারণাস্ত্র ব্যবহার করেছিল। কীভাবে আলামত নষ্ট করা হয়েছিল। একাধিকবার সেই হামলার তদন্তকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছিল। যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন সরকারের বাঘা-বাঘা কর্তা ব্যক্তিরা।
সবকিছুর পর এই রায়ে আবার প্রমাণিত, অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন; দেরিতে হলেও তাকে অপরাধের শাস্তি পেতেই হয়। কোনোভাবেই সেই পাপ থেকে মুক্তি মেলে না।








