কোটা সংস্কার আন্দোলনে রাতেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ছাত্রী নির্যাতনের অভিযোগে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয় সুফিয়া কামাল হলের ছাত্রলীগ সভাপতি ইফফাত জাহান এশাকে।
মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে ওই হলের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী মোর্শেদা আক্তারকে নিজ রুমে ডেকে নিয়ে এশা নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ করেন ওই হলের ছাত্রীরা।
মোর্শরদাকে প্রথমে হল সংলগ্ন সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা বিশ্বিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে তাকে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে নেওয়া হয়।
মোর্শেদার রক্তমাখা পা দেখে তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভে নামেন ওই হলের কয়েক শ’ ছাত্রী।
মোর্শেদার রক্তমাখা পায়ের সেই ছবি মুহূর্তেই ভাইরাল হলে বিভিন্ন হল থেকে কয়েক হাজার ছাত্র বের হয়ে সুফিয়া কামাল হলের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
এরপর রাত দেড়টার দিকে প্রক্টর একেএম গোলাম রাব্বানীফ ওই হলে গিয়ে এশাকে বহিষ্কারের কথা জানান শিক্ষার্থীদেরকে। যদিও এক পর্যায়ে তিনি ছাত্রদের তোপের মুখে পড়েন।
এর কিছুক্ষণের মধ্যেই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তি এশাকে ছাত্রলীগ থেকেও বহিষ্কারের কথা জানান।
পরে এশাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবিতে আন্দোলন করেন ওই হলের ছাত্রীরা। হল গেটের বাইরেও একই দাবিতে বিক্ষোভ করেন বিভিন্ন হলের কয়েক হাজার ছাত্র।
এক পর্যায়ে এশাকে বিশ্ববিদ্যালয় ও হল থেকে বহিষ্কারের খবর আসলে ছাত্ররা কিছুটা শান্ত হয়। তবে তারা বিক্ষোভ চালিয়ে যান ভোর পর্যন্ত।
ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকেও তারা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
ছাত্রী নির্যাতনের খবর পেয়ে ছাত্ররা সুফিয়া কামাল হলের দিকে যেতে চাইলে তাদের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বাধা দেয় বলে অভিযোগ করেন ছাত্ররা।
জিয়া হল, বিজয় একাত্তর হলসহ বিভিন্ন হলের ছাত্ররা ছাত্রলীগের বাধা এবং হলের গেট ভেঙে বাইরে বের আসেন বলে খবর পাওয়া যায়।








