চট্টগ্রাম বন্দরে আটক কোকেনের পরিমাণ জানতে জাতিসংঘসহ বন্ধুপ্রতীম দেশের সহযোগীতা চেয়েছে বাংলাদেশ। কাষ্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানিয়েছেন, কোকেনের চালানটি বাংলাদেশে ব্যবহারের জন্য নিয়ে আসা না হলেও এর সঙ্গে জড়িতদের খুঁজের বের করতে সোমবার থেকে কাজ শুরু করেছে ৪ সদস্যের কমিটি।
বলিভিয়া থেকে বাংলাদেশে আসা সূর্যমুখী ভোজ্যতেলের একটি চালান খালাসের আগেই চট্টগ্রাম বন্দরে গত ৬ জুন আটক করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং পুলিশ। তেলের সঙ্গে লিকুইড কোকেন থাকতে পারে এমন সন্দেহে ৮ জুন আটক কন্টেইনারটি খুলে ১শ’৭টি ড্রাম থেকে তেল নিয়ে তা পরীক্ষা করেন মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
ওই পরীক্ষায় কোকেনের উপস্থিতি না পাওয়া গেলে পরে তেলের নমুনাগুলো পরীক্ষার জন্য ঢাকার মহাখালীতে ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরী এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদে পাঠানো হয়।
সেখানে ৯৬ নম্বর ড্রামের তেলের নমুনায় কোকেনের উপস্থিতি ধরা পড়ে। ওই ড্রামে কি পরিমাণ কোকেন আছে তা নির্ধারণে কোনো প্রযুক্তি না থাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জাতিসংঘ এবং বন্ধু প্রতীম দেশের সহযোগীতা চেয়েছে বাংলাদেশ।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডক্টর মইনুল খান জানান, এখানে কি পরিমাণ কোকেন রয়েছে তা তারা বলতে পারেনি। আমরা আন্তর্জাতিক এক্সপার্ট পাওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছি। আশা করছি আজকালের মধ্যে চিঠি ইস্যু করা হবে। খুব শিগগিরই এক্সপার্ট মিশন আমাদের দেশে আসবে।
তিনি বলেন, একটা আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান চক্র এর সাথে জড়িত এবং তাদের নেটওয়ার্ক আমাদের এখানেও বিস্তৃত। যদি এই মুহূর্তে পুরো দলকে ধরতে যদি সমর্থ নাও হওয়া যায়, একজনকে ধরলে পরে অন্যদের ধরা সম্ভব হবে।
এলসি না খুলেই সূর্যমুখী ভোজ্যতেলের চালানটি বাংলাদেশে নিয়ে আসা হলেও এর গন্তব্যস্থল পশ্চিম ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট বা কানাডা হতে পারে বলে ধারণা করছেন শুল্ক গোয়েন্দারা। তবে এই চালানটি এই দেশে নিয়ে আসার সঙ্গে কারা জড়িত তাদের খুঁজে বের করতে সোমবার থেকে কাজ শুরু করেছে ৪ সদস্যের কমিটি।
শুল্ক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরেই কোকেন আমদানির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নেয়া হবে।






