আগামী পাঁচ বছরের জন্য কে হবেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী? তার সুরাহা হবে আগামী ২৫ জুলাই৷ ওইদিন জাতীয় সংসদ ও চারটি প্রদেশের প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করবেন পাকিস্তানের জনগণ৷
ইতোমধ্যে এই নির্বাচনকে ঘিরে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। বিভিন্ন জরিপ বলছে, এবার পাকিস্তান পেতে যাচ্ছে নতুন প্রধানমন্ত্রী, আর এই দৌড়ে এগিয়ে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) ইমরান খান ও পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) এর শাহবাজ শরীফ।
পাকিস্তানের প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা ইমরান খান সম্প্রতি বিবিসিকে বলেছেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা ক্ষমতায় থাকাকালীন তাদের অতীত কৃতকর্মের জন্যই পরাজিত হবেন।
এই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে কিনা সে নিয়ে পাকিস্তানে যে উদ্বেগ রয়েছে তাও তিনি নাকচ করে দিয়েছেন তিনি।
ইমরান খান বলেন, অন্য দলগুলো হঠাৎ করে বলতে শুরু করেছে যে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে না। এর কারণ হল জনমত জরীপে দেখা যাচ্ছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ এগিয়ে রয়েছে। তারা আসলে ইতোমধ্যেই ভাগ্যের লিখন দেখতে পাচ্ছে।
পাকিস্তানের দৈনিক ডন জানিয়েছে, নির্বাচনী প্রচারণায় সরব নওয়াজ শরীফের ছোট ভাই শাহবাজ শরীফ অভিযোগ করেছেন, ইমরান খান ছাড়া সব রাজনীতিবিদ বাধার মুখে পড়ছেন। তবে নির্বাচনে তাদের জয় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ইমরান খান জনপ্রিয়তা হারিয়ে মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছে জানিয়ে শাহবাজ শরীফ বলেন, লোকজন আর ইমরান খানের সমাবেশে যেতে চান না। ইমরান খান অন্য দলগুলোর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগে এনে প্রচারণায় ব্যস্ত আছেন।
অন্য প্রার্থীরা যখন প্রচারণায় ব্যস্ত তখন তার দলের নেতারা ন্যাশনাল একাউন্টাবিলিটি ব্যুরো’র (এনএবি) মামলায় নির্দোষ প্রমাণে ব্যস্ত থাকতে চাচ্ছে। তার অভিযোগ, এনএবি’র মামলায় তার দরকে কোনঠাসা করে ফেলা হচ্ছে। 
ইতোমধ্যে তার ভাই সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ ও তার মেয়ে মরিয়ম দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেলে আছেন। এতকিছুর পর জনগণ তার দলকেই নির্বাচনে জয়ী করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন শাহবাজ শরীফ।
বিভিন্ন জনমত জরিপ বলছে, এমনও হতে পারে নির্বাচনে একক কোন দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। সেক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে জোট ঘটনের। আর জোট গঠনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে পিটিআই ও পিএমএলের বাইরে দেশটির তৃতীয় বড় দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি।
পিপিপির প্রধান প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভূট্টো ও আসিফ আলি জার্দারির বড় ছেলে বিলাওয়াল ভূট্টো। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হওয়ায় বিলাওয়াল ভূট্টোও জনসমর্থন পাচ্ছেন।
তিন দিন পরই নির্বাচন। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা যেমন তুঙ্গে, তেমনি নির্বাচনী সহিংসতায় জর্জরিত দেশটি। নির্বাচনী সভা-সমাবেশে একের পর এক হামলায় প্রাণ হারাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ।
গত ১৩ জুলাই পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে নির্বাচনী সভায় বোমা হামলায় বেলুচিস্তান আওয়ামী পার্টির (বিএপি) প্রার্থী নওয়াবজাদা সিরাজ রাইসানিসহ ৭০ জন নিহত হন। ওই হামলায় আহত হন আরো ১২০ জন।

একই দিন সকালে বান্নুতে খাইবার পখতুনের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আকরাম খান দুররানির বহরে হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় আকরাম খান বেঁচে গেলেও চারজন নিহত হন। আহত হন আরো ৩২ জন।
১০ জুলাই পেশোয়ারের ইয়াকতুন এলাকায় আত্মঘাতি হামলায় আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টির নেতা হারুন বিলাওয়ারসহ ২০ জন নিহত হন। তার আগে ৭ জুলাই আরেক হামলায় বান্নুতে এক প্রার্থীসহ ৭ জন নিহত হন।









