শব্দটার বাংলা অর্থ অধিনায়ক। খেলাধুলার ভাষায় যেটি ‘ক্যাপ্টেন’ বলেই বেশি পরিচিত। বাংলাদেশ টেস্ট দলের জন্য এই শব্দটা এখন গলার কাঁটা। দলটির ক্যাপ্টেন আসলে কে, তা বুঝতে রফাদফা হওয়ার জোগাড়।
কাগজে কলমে ক্যাপ্টেন বলা হচ্ছে মুশফিকুর রহিমকে। সেই তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলছেন, কোচের চাওয়ায় দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন বেশির ভাগ সময় নিজে বাউন্ডারি লাইনে ফিল্ডিং করেছেন!
কী ভয়ঙ্কর! একজন অধিনায়ক যখন এভাবে কথা বলেন, তখন বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়, ড্রেসিংরুম থেকেই অন্য কেউ তাকে পরিচালনা করেন। ফুটবলের মতো ক্রিকেট কখনো অতটা কোচ নির্ভর খেলা নয়। ফুটবলে প্রতি মিনিটে মিনিটে একটি দলকে কৌশল পাল্টাতে হয়। কোচ থাকেন সাইডলাইনে। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হলে তিনি অধিনায়ককে স্মরণ করেন। খেলোয়াড়দের পজিশন নিয়ে দিক নির্দেশনা দেন।
ক্রিকেটে এই পজিশন বলতে ফিল্ডিং। যাতে কোচরা খুব একটা নাক গলান না। খেলা শুরু হওয়ার পর অধিনায়কই তার মতো করে ফিল্ডিং সাজান। লম্বা সময় ধরে খেলা হওয়ায় একজন কোচ সারাক্ষণ মাঠের পাশে বসে থাকতে পারেন না। তাছাড়া ক্রিকেট এমন খেলা মাঠে না থাকলে বোঝা কঠিন কোন ব্যাটসম্যানের জন্য কখন, কোথায় ফিল্ডিং সাজাতে হবে।
দ্বিতীয় টেস্টে টস জিতে বোলিং নেয়ার সিদ্ধান্ত কার, সেটি এখন আর তাই বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। যে মুশফিক মাঠে নিজের ইচ্ছামতো মতো দাঁড়াতে পারেন না, সেই মুশফিকের পক্ষে টসের সিদ্ধান্ত নেওয়া তো হিমালায় জয় করার মতো ব্যাপার!
বাংলাদেশ দলে হাতেগোনা যে কজন মেধাবী, পরিশ্রমী খেলোয়াড় আছেন, মুশফিক তাদের একজন। কিন্তু দিনকে দিন তাকে এমন অবস্থায় নামিয়ে আনা হচ্ছে যা দৃষ্টিকটু। এই দায় মুশফিকের ব্যক্তিত্বের।

ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফীও অনেক সময় এমন পরিস্থিতিতে পড়েন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি নিজের বুদ্ধিতে বিশ্বাস রাখেন।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর ম্যাচে এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল। দ্বিতীয় পানিপানের বিরতির সময় মাশরাফী স্পাইক পরিবর্তন করতে ড্রেসিংরুমে যান। তখন কোচকে বলেন এক-দুই ওভারের জন্য স্পিনার আনা যায় কি না। মোসাদ্দেক আগে কোনও এক ম্যাচে জিমি নিশাম এবং কোরি অ্যান্ডারসনকে বিপাকে ফেলেছিলেন। তাই ম্যাশের চিন্তা ছিল তাকে আক্রমণে আনার। মোসাদ্দেককে এনেই বাজিমাত করেন মাশরাফী। সেদিন রিয়াদ, সাকিবের ঐতিহাসিক জুটিতে বাংলাদেশ জয় পেলেও মোসাদ্দেক আক্রমণে এসে দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষের রান কমিয়ে রাখেন। কোচ মাশরাফীর ওই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত ছিলেন না। কিন্তু মাশরাফী ঠিকই নিজের মনের কথায় সায় দিয়ে উতরে যান। পরের ওভারে এসেই মোসাদ্দেক বাজিমাত করেন। গুরুত্বপূর্ণ তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ দুর্বল করে দেন। অধিনায়ক মাশরাফী এমনই।
শুক্রবার অধিনায়ক মুশফিকের তালগোল পাকানো সিদ্ধান্ত দেখেই বোঝা গেছে কিছু একটা সমস্যা হচ্ছে। প্রথম ছয় ওভারের ভেতর চারজন বোলার ব্যবহার করেন তিনি। চা বিরতির আগ পর্যন্ত তার পেসাররা ছিলেন ছন্নছাড়া। মুশফিক দূরে দূরে ফিল্ডিং করায় বোলারদের সঙ্গে ঠিক মতো কথাও বলতে পারছিলেন না। হয়তো জানতেন, কথা যা বলার ওই সাজঘর থেকে কেউ একজন বলে দিবেন!
ছবি: সাকিব উল ইসলাম







