চার দিনের টেস্ট। তিন দিনেই ফল হওয়ায় সম্ভাবনায়। যেখানে নবীন টেস্ট খেলুড়ে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে স্পষ্ট ব্যাকফুটে ওয়ানডের বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। লর্ডসে স্বাগতিকরা যে লড়াইটা ধরে রেখেছে, সেটিও জ্যাক লিচ নামের এক চমকে দেয়া ব্যাটসম্যানের কল্যাণে! যিনি টেস্ট ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে একইদিনে ১১ নম্বরে আর ওপেনিংয়ে ব্যাট করতে নেমে রুট-রয়দের মান বাঁচানোর পথ করেছেন খানিকটা!
নাইটওয়াচম্যান হিসেবে ওপেন করতে নেমে ৯২ রানের ইনিংস খেলে লিচ অনেকটা পথ এগিয়ে দিলেও ইংল্যান্ড বাকি ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় হাঁসফাঁস করছে অ্যাশেজের সপ্তাহখানেক আগে গা গরমের আবহের টেস্টে। মাত্র ১ উইকেট হাতে রেখে আইরিশদের সামনে কেবল ১৮১ রানের লিড দাঁড় করাতে পেরেছে ইংলিশরা। সেখানে অবিস্মরণীয় জয়ের পথচিত্র আঁকতে পুরো দুটি দিন হাতে পাবে আয়ারল্যান্ড।
লর্ডস টেস্টে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ উইকেটে ৩০৩ রান তুলে বৃহস্পতিবারের দিন শেষ করেছে ইংল্যান্ড। প্রথম ইনিংসে ইংলিশরা মাত্র ৮৫ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল। আয়ারল্যান্ড নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২০৭ রান তুলে নিয়েছিল ১২২ রানের লিড। দ্বিতীয় দিন শেষে সেটা টপকে ১৮১ রানের লিড নিয়ে শঙ্কা-রোমাঞ্চের মাঝখানে দুলছে রুটের দল।
প্রথমদিনে একশর নিচে গুটিয়ে যাওয়ার পরের ইনিংসে ইংলিশদের ত্রাণকর্তার নাম জ্যাক লিচ। ৮০টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে বৃহস্পতিবারের আগপর্যন্ত তার ফিফটি ছিল সবে দুটি, ব্যাটিং গড় ১০.৯৭। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের সর্বশেষ মৌসুমে ১২ ইনিংসে রান করেছেন মোটে ৪২! আর চার টেস্ট খেলে দশের নিচে গড়ে ৫৫ রান নামের পাশে, সর্বোচ্চ ছিল ১৬!
আসলে ব্যাটিংটা যে লিচের মূল কাজ নয়। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে নয়, দলে তার আসা স্লো লেফটআর্ম অর্থোডক্স বোলার হিসেবে। যেখানে টেস্ট, প্রথম শ্রেণি, লিস্ট এ মিলিয়ে তিনশর উপর উইকেট আছে ২৮ বছর বয়সী লিচের নামের পাশে।
এই টেস্টের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং পজিশন ছিল ১১ নম্বরে। দ্বিতীয় ইনিংসে সেই ব্যাটসম্যানকেই ওপেনিংয়ে পাঠানো হয়। নাইটওয়াচম্যান হিসেবে। সুযোগটি কী দারুণভাবেই না কাজে লাগালেন লিচ! সেঞ্চুরির ইতিহাস প্রায় গড়েই ফেলেছিলেন। শেষপর্যন্ত ৮ রানের আক্ষেপ সঙ্গী হয়েছে।
বুধবার বিকেলে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র এক ওভার ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়েছিল ইংল্যান্ড। তখন বার্নসের সঙ্গে লিচকে উইকেটে পাঠানো হয়। সেদিন কোনো রান তুলতে না পারলেও অবিচ্ছিন্ন থেকে দ্বিতীয় দিনে নেমে শুরুটা ভালোই করেন দুজনে। তবে ২৬ রানের সেই জুটিতে মাত্র ৬ করে যান ররি বার্নস।
লিচ পরে প্রায় দুই সেশন ব্যাট করেছে জেসন রয়কে নিয়ে। দ্বিতীয় উইকেটে দুজনে যোগ করেছেন ১৪৫ রান। তখন ম্যাচ সহজই মনে হচ্ছিল ইংল্যান্ডের জন্য। ওপেন করতে নামা প্রথম নাইটওয়াচম্যান হিসেবে সেঞ্চুরি করার ইতিহাসের কাছে ছিলেন লিচও।
৭৮ বলে ৭২ রান করে রয় বোল্ড হয়ে ফিরলে ভাঙে দেড়শর কাছের জুটি। খানিক পরে ১৬ চারে ১৬২ বলে ৯২ রানে ফেরেন লিচও। টিম মুরটাঘের বলে আদিয়ারকে ক্যাচ দিয়ে। সেখান থেকে আবারও পথ হারায় ইংলিশরা।
জো ডেনলি ১০ রানে ফেরেন রানআউটে। অধিনায়ক জো রুট থামেন ৩১ রানের সম্ভাবনা জাগিয়ে। প্রথম ইনিংসের মতো রানের খাতা খুলতে পারেননি জনি বেয়ারস্টো। ২১ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে ইংল্যান্ড।
মইন আলি ৯, ক্রিস ওকস ১৩ রানে ফিরলে বিপদ আরও বাড়ে। লোয়ার অর্ডারে স্যাম কারেন ও স্টুয়ার্ট ব্রড লড়ে তিনশর ওপারে নেন সংগ্রহটা। ৪ চার ও ২ ছক্কায় ২৯ বলে ৩৭ রান করে যান কারেন।
ব্রড অপরাজিত আছেন ২১ রানে। ব্যাটে আর কয়েকটা রানের জন্য তার দিকে তাকিয়ে থাকবে দল। তবে আসল কাজ যে বোলিংয়ে, সেখানে ব্রডকে তো বটেই, জ্বলে উঠতে হবে বাকিদেরও। নয়ত আইরিশ উল্লাসের মঞ্চ হবে লর্ডস। যেখানে কদিন আগেই একজন আইরিশম্যান ইয়ন মরগানের নেতৃত্বে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছিল ইংল্যান্ড।










