চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের মতো ম্যাচে ৩-০ গোলে হার। বার্সা কোচ এই হারকে বলছেন ‘দুঃস্বপ্ন’। টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে ফিরতি লেগে ৪-০ ব্যবধানে জিততে হবে। কোন ভুলে জুভেন্টাসের কাছে এমন অসহায় আত্মসমর্পণ করল তার ছেলেরা, সে উত্তর তিনি দেননি। চলুন আমরা খুঁজে দেখি:
দিবালাকে গুরুত্ব না দেওয়া: আপনি যাদের সঙ্গেই ‘যুদ্ধ’ করেন, শত্রুকে যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। পাহারায় রাখতে হবে। ফুটবল নামক সেই যুদ্ধে এই কাজটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। লুইস এনরিকে যতক্ষণে এটা উপলব্ধি করেন, ততক্ষণে সব শেষ। দুই গোল করে কাজের কাজ সারেন জুভেন্টাসের প্রধান অস্ত্র দিবালা। দিবালা যখন প্রথম গোলটি করেন, তখন বক্সের ভেতর ‘আনমার্ক’ ছিলেন। ইনিয়েস্তা সতর্ক থাকলে তাকে কাউন্টার করতে পারেন। এগিয়ে আসতে পারতেন পিকে কিংবা সার্জিও। ডান উইং দিয়ে উঠে আসা কাউডারদোর কাছ থেকে বল পেয়ে চকিতে বাঁ পায়ে শট নেন দিবালা। পিকে ভেবেছিলেন দিবালা আরও সময় নেবেন। ওই সময় বার্সা ডিফেন্ডারে করার তেমন কিছু ছিলও না। আগেভাগে তাকে মার্ক করা উচিত ছিল ওই ইনিয়েস্তার। কেননা তার সামনেই ছিলেন দিবালা।
কাউডারদোর কৃতিত্বকে এখানে এড়িয়ে যাওয়া যায় না। ম্যাথিউকে ড্রিবলিংয়ে যেভাবে বিট করেন, তা ছিল দেখার মতো। বক্সের বাইরে হলে ‘থার্ড ডিফেন্ডার’ ম্যাথিউ পা চালিয়ে দিতেন। পেনাল্টির ভয়ে সেই কাজটা থেকে বিরত থাকতে যেয়েই কাউডারদোকে সময় দিয়ে দেন। ততক্ষণে তারকা উইঙ্গার দিবালাকে অ্যালাউ করেন। সুযোগ বুঝেই বল ছেড়ে দেন।
দ্বিতীয় গোলটিও একই ভুলে। তবে জুভেন্টাসের কৌশল ছিল আলাদা। ডান উইংয়ের পরিবর্তে বাঁ উইং দিয়ে আক্রমণে আসে দলটি। বক্সের ঠিক বাইরে ‘আনমার্ক’ দিবালা। যে ছেলেটি কিছুক্ষণ আগে গোল করলেন, তাকে ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেও কাছে গেলেন না মাসচেরানো। এবারও বল ধরেই চোখের পলকে বাম পায়ের যাদু দেখান। পিকের সামনে দিয়ে বল ঢুকে যায় জালে।
বুফন যাদু: বয়স নাকি তার ৩৯! কিন্তু মাঠে চালচলন দেখলে ঠাওরই করা যায় না। ইনিয়েস্তাকে যেভাবে গোলবঞ্চিত করেন, তাতে অনেক তরুণ কিপারের ঈর্ষা হতে পারে। ইনিয়েস্তাকে চোখে রেখে বক্সে বল বাড়ান মেসি। বুফন ওয়ান-টু-ওয়ান পজিশনে পড়ে যান। এই সময় সাধারণত গোলমুখ ছোট করতে রক্ষক উপরে উঠে আসেন। অভিজ্ঞ বুফন সেই কাজটি করতে এতটুকু সময় নেননি। কিন্তু ইনিয়েস্তাও কম যান না। দ্বিতীয় বারে বল ঠেলেন। ঠিক তখনই বিশ্বস্ত হাতটা ব্যবহার করেন বুফন। কোনমতো বল বাইরে পাঠান। একজন গোলরক্ষক যখন উঠে আসেন, তখন এই কাজটি করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। বুফন ঠিকই বুঝেছিলেন ঝাঁপালে চলবে না, অপেক্ষা করতে হবে। ওই গোলটি হয়ে গেলে ম্যাচের চেহারা পাল্টে যেতে পারতো। বড় ম্যাচে এসব সুযোগ মিস হলে খেসারতও বড় করে দিতে হয়।

কৌশলে হেরফের: বার্সা এদিন মার খেয়েছে বক্সের বাইরে বল দখলের লড়াইয়ে এবং ফরওয়ার্ড পাসে। ১০টি সেন্টার শটের পাশাপাশি ৪১ শতাংশ ফরওয়ার্ড পাস ছিল তাদের। বার্সার সেখানে ২১ শতাংশ!
পাসিংয়ে বার্সা বেশ এগিয়ে ছিল। কিন্তু রক্ষণভাঙা সম্ভব হয়নি। জুভেন্টাস নজর দিয়েছিল লংপাসে। হিসেব করে দেখা গেছে গোটা ম্যাচে ৫১টি লং পাস খেলেছে তারা। বার্সা চিরাচরিত শর্ট পাসেই চোখ দিয়ে ব্যর্থ হয়েছে। ৫৬০টি শর্ট পাস ছিল তাদের। যা একটুও কাজে আসেনি। লং পাস ৫৩টি। তার অধিকাংশ আবার শেষ দিকে।
ক্রসিংয়ে বার্সা বেশি নজর দিলেও জুভেন্টাসের মতো নিখুঁত হতে পারেনি। বার্সার মোট ক্রস ছিল ১৭টি। জুভেন্টাসের ১০টি। দুইদিক থেকে মোটামুটি সমান আক্রমণে গেছে তারা। বাঁ দিক থেকে ক্রস বেশি হলেও (৬টি) ডান দিকে চোখ ছিল বেশি।
প্রথম আর শেষ গোলটাও (বাঁ দিকের কর্নার থেকে ডান কোণায় কিয়েলিনির হেড) ওই ডান দিক থেকে হয়েছে। জুভেন্টাস বস মাসিমিলানিও আলেগ্রি নিশ্চয়ই জানতেন কোথায় জোর দিতে হবে!







