“মানুষ সবসময় ‘স্টার’ খোঁজে কিন্তু সত্যিকারের নক্ষত্র যারা তারা বেশিরভাগ সময়েই অগোচরে রয়ে যায়। নূরজাহান বেগমও তেমনই একটি নক্ষত্র। যিনি কিনা মানব মনে জ্বল জ্বল করে জ্বলে রইবে অনেকদিন।”
“জগতে সবাই পথ তৈরি করতে পারে না। সেটা কেউ কেউ তৈরি করে আর বাকিরা তাদের দেখানো পথ অনুসরণ করে। নূরজাহান বেগম বাংলার নারীদের জন্য পথ তৈরি করেছেন। সেই পথেই এখন হাঁটছি আমরা।”
কথাগুলো যথাক্রমে বলছিলেন কলামিস্ট ও উন্নয়নকর্মী চিররঞ্জন সরকার এবং নারী বিষয়ক অনলাইন পোর্টাল উইমেন চ্যাপ্টারের সম্পাদক সুপ্রীতি ধর। নূরজাহান বেগমের মতো মহিয়সী নারীকে নিয়ে বলতে গিয়ে এসব মন্তব্য করেন তারা।
নূরজাহান বেগমকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে চিররঞ্জন সরকার বলেন, একটিমাত্র পদক্ষেপ অনেক সময় পথ প্রদর্শন করে। বেগম পত্রিকা যেমন নারী সাংবাদিকতাকে সামনে নিয়ে এসেছে তেমনই নারীর সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রেও বেশ প্রভাব ফেলেছে বেগম। নূরজাহান বেগম যখন নারী প্রগৃতির ঝান্ডা তুলে ধরেন তখন তার আশপাশের পরিবেশ তার জন্য মোটেও অনুকূল ছিলো না। তখন দেশ ছিলো সাম্প্রদায়িক পশ্চাৎপদ। সেই সময়ে সমাজ কিন্তু মোটেও প্রগ্রেসিভ ছিলো না। সেই সময়েই নিজেকে দাঁড় করিয়েছেন এই নারী। নূরজাহান বেগম শুধু পথ প্রদর্শকই ছিলেন না, একজন ভালো কর্মীও ছিলেন তিনি। তাই তিনি তার পক্ষে যতটুকু সম্ভব চেষ্টা করে গেছেন। তার সাধ্যের মধ্যে থেকে খেলাধূলায় বা ছবি আঁকায় যে যেখানে পারদর্শী সেটাই বিকাশের চেষ্টা করেছেন।

চিররঞ্জন আরও বলেন, তিনি মহিয়সী কারণ, আমরা অনেক কাজ শুরু করি কিন্তু শেষ অব্দি ধরে রাখতে পারিনা। তিনি তার কাজ শুরু করেছেন। এবং সেটাই শেষ পর্যন্ত ধরে রেখেছেন। যে আদর্শ নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন সেটা থেকেও পথ হারাননি। তেমনই কখনোই কোনো স্বৈরাচারী শাসক বা পাকিস্তানী শাসকের পক্ষে কথা বলে নিজেকে বা নিজের পত্রিকাকে কখনো বিতর্কিতও করেননি। একটি পত্রিকায় লেখনীর মাধ্যমেও যে বিপ্লব ঘটানো যায় তা প্রমাণ করেছেন তিনি।
এখন অনেক সুযোগ তৈরি হয়েছে নারীদের জন্য। রয়েছে লেখালেখিরও সুযোগ। তিনি তো আর সেসব পাননি। তার মধ্যে থেকেই তিনি নিজেকে গড়েছেন, নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন সেটাই সম্মানের।

তবে তার সম্পর্কে আরো বেশি লেখালেখি করা উচিত উল্লেখ করে চিররঞ্জন সরকার বলেন, আমরা সাধারণত সবাই অতীত বিমুখ। অতীত জানতে বা শুনতে আমাদের তেমন আগ্রহ নেই। কিন্তু এমন একজন মানুষ সম্পর্কে জানাটাও গৌরবের। সেই দায়িত্বটা অবশ্য সংবাদকর্মীদেরই নিতে হবে।
একই কথা বলছিলেন সাংবাদিক সুপ্রীতি ধরও। সুপ্রীতি বলেন, ওই সময়ে এত সব প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি নিজেকে এগিয়ে নিয়েছেন আর আমরা এখন অনেক অনেক সুযোগ থাকার পরও কি খুব বেশি এগোতে পেরেছি। তিনি আমাদের জন্য পথ তৈরি করে দিয়ে গেছেন। তিনি ছিলেন আমাদের পথিকৃৎ। তার দেখানো পথেই আমরা চলছি।

কিছু কিছু মানুষ জন্মান পৃথিবীতে যারা সুরঙ্গের পথে আলোটা ঠিক ধরে রাখেন নূরজাহান বেগম তেমনই একজন। নারীদের বাইরে বের করে আনার পদক্ষেপটা তিনিই নিয়েছিলেন। তখন তিনি ঘরে ঘরে গিয়ে গিয়ে নারীদের লেখা-আঁকা সংগ্রহ করতেন। এখন অনেক অনেক নারী সাংবাদিকতায় কাজ করছেন। সেটাও তিনি দেখে যেতে পারলেন। আদর্শটা সবাই ধারণ করতে পারে না। আর সেটাতেই শেষ অব্দি অবিচল থাকতেও পারে না। নূরজাহান বেগম সেটাই করে দেখিয়েছেন।
তথাকথিত স্টারের মতো নিজের অবস্থান জানান না দিয়েও নারীদের অগ্রযাত্রার পথিকৃৎ এই নারী সবার মনে নক্ষত্রের মতোই জ্বলজ্বল করবেন।








