২০১৫ সালে সিরিয়ার পালমিরা দখল করার পর থেকেই সেখানকার ঐতিহ্যবাহী প্রাচীণ নিদর্শনগুলি ধ্বংস করা শুরু করেছিল ইসলামিক জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বা আইএস। পালমিরা নগরের দুই হাজার বছর পুরনো প্রাচীণ মন্দির বাল শামিনসহ বেশ কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা গুড়িয়ে দিয়ে বিশ্বজুড়েই উদ্বেগের সৃষ্টি করে আইএস জঙ্গিরা।
বিশ্ব মিডিয়াসহ সচেতন সকলের প্রশ্ন কেন আইএস জঙ্গিরা এই হাজার বছরের পুরনো সাংস্কৃতিক নিদর্শনসহ পুরার্কীতিগুলো ধ্বংস করছে। অনেকে মনে করেন আইএসের এমন ধ্বংসযজ্ঞে সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে।
লন্ডনের কিংস বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিফেন্স স্টাডিসের অধ্যাপক ডেভিড বি রবার্ট বিবিসিকে জানিয়েছেন, আইএসের নিজস্ব প্রকাশনা ডাবিক ম্যাগাজিনের অষ্টম ইস্যুর একটি প্রতিবেদনে তারা বলেছে ইরাকি, সিরিয়ার গণমানুষের তাদের প্রতি আনুগত্য আনতেই তারা প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী এই নিদর্শনগুলো একের পর এক গুড়িয়ে দিচ্ছে।
প্রাচীণ মন্দির, মূর্তি, ঐতিহ্যবাহী পুরার্কীতি আইএস জঙ্গিরা ধ্বংস করছে একটা জাতীয়তাবাদী ধারণা থেকে। এবং আইএস এই ধ্বংসযজ্ঞকে তাদের নিয়মিত কর্মের মধ্যেই ফেলেছে।
ডেভিড বি রবার্ট আরো জানান, ব্যাপক অর্থে ধর্মীয় উন্মাদনাকেও আইএসের জঙ্গিরা কাজে লাগিয়েছে। ধর্মের দোহাই দিয়ে তারা তাদের মতো করেই সব কিছু করছে। পরবর্তীতে যদি আইএস শিয়া, সুন্নীদের কোন স্থাপনা ধ্বংস করে তাহলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
গত ১৪ মে এক ভাষণে আইএস নেতা আবু বকর আল বাগদাদি বলেছেন, ‘‘ইসলাম কখনো এক দিনের জন্যও শান্তির ধর্ম ছিল না, ইসলাম যুদ্ধের ধর্ম।”
অধিকাংশ ইসলামি দার্শনিক এবং চিন্তাবিদ ইসলামকে যেখানে সবসময় ‘শান্তির ধর্ম’ বলেছেন, সেখানে জঙ্গি সংগঠনের এক নেতার এমন ব্যাখ্যা সত্যিই ভাবিয়ে তুলে।
যদি তাই হয় তবে জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস ধর্মীয় উন্মাদনা আর তাদের প্রতি আনুগত্য আনতেই সহস্রাব্দের এমন প্রাচীন নিদর্শনগুলো ধ্বংস করছে বলে মনে করা হয়।







