কুমিল্লা সীমান্ত এলাকা দিয়ে অহরহ বিভিন্ন ধরনের মাদক আসলেও তা বন্ধে বড়ো কোন তৎপরতা নেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর। ফলে ওই এলাকার বিস্তৃত সীমান্ত দিয়ে নিয়মিতই আসছে গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা। এতে বাড়ছে অপরাধ।
ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সঙ্গে কুমিল্লার সীমান্ত ১শ’ ১৪ কিলোমিটার। বিস্তৃত এ সীমান্ত এলাকায় একটি মাত্র স্থলবন্দর- বিবিরবাজার। সেখানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ- বিজিবি’র একটি চেকপোস্টও আছে। মোট ২৫টি চেকপোস্ট ছাড়া পুরো সীমান্ত এলাকা এক রকম অরক্ষিত। এ সুযোগে ভারত থেকে প্রতিদিন আসছে গাঁজা, ফেনসিডিল ও ইয়াবা। ফলে নেশার মেলায় আসক্ত হচ্ছে তরুণরা।
সীমান্তের এলাকাবাসীরা বলছে, সন্ধ্যায় মোটর সাইকেলে করে ভারত থেকে নিয়ে আসা হয় মাদক। এই সীমান্ত দিয়ে ফেনসিডিল, মদ, গাঁজা ও ইয়াবা আনা হয়। পুলিশ বিজিবি থাকার পরও এই মাদকগুলো অহরহ ঢুকছে বলে জানান এলাকাবাসীরা।
তবে এ বিষয়ে বিজিবি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি। পুরো সীমান্ত পাহারা দিতে যে জনবল দরকার, তা নেই বলে জানিয়েছেন বিজিবির কুমিল্লার সেক্টর কমান্ডার।
সীমান্ত দিয়ে কুমিল্লায় ঢোকার পর অবশ্য পুলিশের অভিযানে প্রায়ই ধরা পড়ে মাদক। মাত্র ৫ মাসে মাদক আটকের পুলিশের হিসাবটি আঁতকে ওঠার মতো।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন জানা, এ পর্যন্ত মাদক নিয়ে আসা ৯২৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
তিনি জানান, এ পর্যন্ত গাঁজা ৭২০, ফেনসিডিল ৬ হাজার ৪শ’ ৫০ বোতাল, ইয়াবা ৬ হাজার ৬শ’ পিস উদ্ধার করতে পুলিশ সক্ষম হয়েছে। গত ২১ মে পর্যন্ত তিন কোটি ৪১ লক্ষ টাকা সমপরিমাণ মাদক দ্রব্য ধ্বংস করেছে পুলিশ।
তিনি আরো জানান, এই মাদকগুলো বাংলাদেশে উৎপাদন হয় না। আসে কিন্তু বর্ডার পেরিয়ে। তাই সীমান্তে থাকা বর্ডার গার্ডরা কাজ করছে। পাশাপাশি পুলিশের কাছে কোনো খবর এলেই দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
পুলিশ সুপার মনেকরেন মাদকের বিস্তার রোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা দরকার।







