নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আনছারুল ইসলাম নামের এক কিশোর জামদানি কারিগরকে আটকে রেখে শিকল দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের ১৯ দিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার তারাব পৌরসভার দক্ষিণ রূপসী এলাকার জামদানি পল্লী থেকে শিকলে বাঁধা অবস্থায় ওই কিশোরকে উদ্ধার করা হয়।
অভিযুক্ত জামিদানী কারখানার মালিক আক্তার হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর আজ দুপুরে আদালতে পাঠালে সে দোষ স্বীকার করে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাঈদুজ্জামান শরীফের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আক্তার হোসেন দক্ষিণ রূপসী এলাকার সরাফত আলীর ছেলে। উদ্ধার হওয়া আনছারুল ইসলাম লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা থানার মধ্যে গুন্দিমারী এলাকার মোতালিব মুন্সীর ছেলে।
উদ্ধার হওয়া জামদানি কারিগর আনছারুল জানায়, রূপগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রূপসী এলাকায় জামদানি পল্লীতে আকতার হোসেনের জামদানি কারখানায় জামদানী কারিগর হিসেবে কাজ করতো আনছারুল।
গত ৩ ফেব্রয়ারি সে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য মালিকের কাছে টাকা চাইলে কারখানার মালিক আক্তার হোসেন তার পায়ে শিকল বেঁধে আটকে রাখে এবং তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। গত ১৯ দিন যাবত আনছারুলকে পায়ে শিকলে বেঁধে জামদানি বুননের কাজ করানো হতো। কাজ করতে না চাইলে তাকে নানাভাবে নির্যাতন চালানো হতো। এই ঘটনায় আনছারুলের ভাই আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেছে বলে সে জানায়।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ শাখা) মোখলেছুর রহমান জানান, কিশোর জামদানি কারগির আনছারুলকে ১৯ দিন আটকে রেখে নির্যাতনের খবর পেয়ে পুলিশ সোমবার রাতে অভিযুক্ত আক্তারের কারখানা থেকে শিকলে বাঁধা অবস্থায় আনছারুলকে উদ্ধার করেছে। পুলিশ নির্যাতনকারী মালিক আকতারকে গ্রেফতার করে আজ দুপুরে আদালতে উপস্থিত করলে সে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।







