দুটি ফিফটি। চারটি পঁচিশোর্ধ্ব ইনিংস। বড় হল না কোনটিই। সাউথ আফ্রিকার বোলিংটাও আহামরি কিছু হল না। ৩২০ রানে অলআউট হওয়া তাই বাংলাদেশের জন্য সুযোগ ছুঁড়ে আসা। যেটা কাজে লাগিয়ে প্রথম ইনিংসেই ১৭৬ রানের লিড নিয়েছে স্বাগতিকরা।
পচেফস্ট্রম টেস্টে সাউথ আফ্রিকা ৩ উইকেটে ৪৯৬ রানে ইনিংস ঘোষণা করেছিল দ্বিতীয় দিনে। আর ৩ উইকেটে ১২৭ রানে দিনশেষ করেছিল বাংলাদেশ। শনিবার গুটিয়ে গেছে ৩২০ রানে এসে। পরে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে এসে প্রোটিয়ারা ২ উইকেটে ৫৪ রান তোলার পর আলোকস্বল্পতায় দিনের খেলা শেষ হয়ে যায়। তবে শেষ বিকেলে ভালো বোলিংয়ের স্বস্তি নিয়েই ঘুমাতে যেতে পেরেছে বাংলাদেশ।
স্বাগতিকরা সবমিলিয়ে এগিয়ে থাকল ২৩০ রানে। চতুর্থ দিনে বাংলাদেশের সামনে লিডের পাহাড় গড়ার মঞ্চই সাজিয়ে রাখল তারা। বাংলাদেশ দৃঢ়তা দেখালে ম্যাচ পঞ্চম দিনে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক। ক্রিকেটে যেকোনো কিছুই সম্ভব ধর্তব্যে নিলে হয়ত জয়ও সম্ভব! কিন্তু ক্রিকেটীয় বাস্তবতা বলছে আহামরি কিছু না হলে এই টেস্টে জয়ের সম্ভাবনায় থাকা একমাত্র দলটির নাম সাউথ আফ্রিকাই! তবে তারা বড় লক্ষ্য দিলে পাল্টা প্রতিরোধে ড্র করা কঠিন হলেও অসম্ভব নয় বাংলাদেশের জন্য।
দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে আগের ইনিংসের দুই নায়ক এইডেন মার্করাম ও ডিন এলগারকে হারিয়েছে প্রোটিয়ারা। শফিউলের রাউন্ড দ্য উইকেটে করা লেন্থ বল লেগে খেলতে যেয়ে লাইন মিস করে এলবিডব্লিউ এলগার (১৮)। রিভিউ নিয়েও পার পাননি প্রথম ইনিংসে ১৯৯ রান করা উদ্বোধনী।
মার্করামকে ফিরিয়েছেন মোস্তাফিজ। দুর্দান্ত এক কাটারে। ফিজের রাউন্ড দ্য উইকেটে এসে অফস্টাম্পের অনেক বাইরে ছোঁড়া কাটারটি খেলতে যেয়ে বোকা বনে যান মার্করাম (১৫)। উইকেটের পেছনে লিটন বল গ্লাভসে নিতে ভুল করেননি। হাশিম আমলা ১৭ ও টেম্বা বাভুমা ৩ রানে পরেরদিন সংগ্রহ বাড়িয়ে নিতে নামবেন।
লিটন দাস, ইমরুল কায়েস ও অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের উইকেট শুক্রবার বিকেলেই হারায় বাংলাদেশ। শনিবার তাকিয়ে থাকতে হয়েছে তামিম ইকবাল ও মুমিনুল হকের ব্যাটের দিকে। শুরুটা সাবধানী হলেও দুজনই ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ।
২২ রানে ব্যাটিংয়ে এসে দুদফা বেঁচে গেছেন তামিম। ২৬ রানের মাথায় রাবাদার বলে এলবিডব্লিউর জোড়াল আবেদনে আঙুল ওঠাননি আম্পায়ার। ডু প্লেসিস রিভিউ চেয়ে বসেন। রিপ্লে অবশ্য তার বিপক্ষেই গেছে। রাউন্ড দ্য উইকেটে ছোঁড়া রাবাদার বল লেগস্টাম্পে বাতাস দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল। আম্পায়ার্স কলে বেঁচে যান টাইগার উদ্বোধনী।
প্রোটিয়াদের অবশ্য বেশি ক্ষতি হয়নি। নতুন আইনের ফাঁক গলে বেঁচে যায় তাদের রিভিউটিও। আম্পায়ার্স কলে এখন থেকে আর রিভিউ খোয়াবে না চেয়ে বসা দল। নতুন আইনের প্রথম প্রয়োগের সঙ্গে মিশে থাকল তামিমের নাম!
তামিম একই রানে থাকার সময় আবারও রিভিউ নেয় প্রোটিয়ারা। রিভার্স সুইংয়ে হয়ে আসা ইয়র্কার তামিমের বুটে লেগেছিল। রিভিউয়ে বেঁচে যান সেদফাও। টিভি রিপ্লে বলে, বল লেগস্টাম্পকে পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল।
বেশিদূর এগোতে পারেননি সেখান থেকে। আন্ডিলে ফেলুকোওর নিরীহ দর্শন এক বলে উইকেট দিয়েছেন ৩৯ রানে। লেগস্টাম্পের বাইরের বলে গ্ল্যান্স করে ব্যাটের কানায় নেন, ডি কক সেটা গ্লাভসে পুরতে ভুল করেননি।
পরে অংশে খানিকটা প্রতিরোধের গল্প। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের শততম টেস্টে বাদ পড়া দুই ভরসা মুমিনুল হক ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাটে জবাবের গল্প।
মুমিনুলের শুরুতে জায়গা হয়নি অস্ট্রেলিয়া সিরিজে। পরে মোসাদ্দেকের চোট জায়গা করে দেয়। উপেক্ষার শেষে ম্যাচও খেলেন। কিন্তু বড় রান দিতে পারেননি। এদিন মনে হচ্ছিল সেঞ্চুরিতেই জবাব দেবেন। সেটা পাওয়া হয়নি।
২০১৪ সালের নভেম্বরে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে সর্বশেষ সেঞ্চুরি পেয়েছেন। বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান পরের ২০ ইনিংসে থাকলেন তিনঅঙ্কহীন। এদিন ফিরলেন ৭৭ রানে। ১২ চারে ১৫০ বলের ইনিংসটি থেমেছে লেন্থ বলে ফরোয়ার্ড শর্টে মার্করামের ক্যাচ হয়ে।
আরেক উপেক্ষিত মাহমুদউল্লাহও তিনঅঙ্ক আনতে পারেননি। ঘরের মাঠের অজি সিরিজে জায়গা হয়নি। কিন্তু অভিজ্ঞ এই মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান পরের সুযোগের প্রথম ধাপেই ক্যারিয়ারের ১৪তম অর্ধশতক তুললেন, ৬৬ রানে থামেন মরকেলের বল স্টাম্পে টেনে এনে।
মুমিনুল ফেরার আগে তামিমের সঙ্গে ৫৫, মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে ৬৯ রানের জুটিতে প্রতিরোধ গড়েন। পরে মাহমুদউল্লাহ একপ্রান্ত আগলে রেখে সাব্বিরের সঙ্গে ৬৫ রান যোগ করেন। প্রস্তুতিতে দুই ইনিংসে ফিফটি করা সাব্বির অবশ্য ইনিংস বড় করতে পারেননি। অলিভিয়ের ভেতরে ঢোকা বল স্টাম্পে টেনে এনে বাজে শটে ফিরেছেন ৩০ রান করে। শেষদিকে মিরাজের অবদান মাত্র ৮!
ছোট ছোট এসব প্রতিরোধের সঙ্গে ছোট একটি অর্জনও এসেছে বাংলাদেশের। সাউথ আফ্রিকায় বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ইনিংস তোলা গেছে এদিন। আগেরটি ছিল ২৫২ রান, ২০০২ সালে, ইস্ট লন্ডন টেস্টে। অবশ্য প্রোটিয়াদের বিপক্ষে নিজেদের সর্বোচ্চ ইনিংস ছোঁয়া হয়নি এতেও। ২০১৫ সালের জুলাইয়ে চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে করা ৩২৬-ই ওপরে থাকল।







