২৯ বছরের কাশ্মীরি তরুণী আরশি নিশার। দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা করে আসছিলেন জাকজমকপূর্ণ আয়োজনের মাধ্যমে বিয়ে করবেন। কিন্তু সেই পরিকল্পনায় বাধ সাধলো কেন্দ্রীয় সরকারের নিষেধাজ্ঞা। ভয়-শঙ্কায় ছোট পরিসরে বিয়ের আয়োজন সারতে হচ্ছে তাদের।
আরশির মতো অনেক তরুণ-তরুণীর ক্ষেত্রেই এমন ঘটনা ঘটছে। বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন থেকে শুরু করে অতিথিদের নিরাপত্তার শঙ্কায় বিয়ের আনন্দ মাটি হয়ে যাচ্ছে তাদের।
এনডিটিভি জানায়, গত আগস্টের শুরুর দিকে জম্মু-কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেয়া ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় ভারত সরকার। এরপর থেকে সেখানে নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
ইন্টারনেট, টেলিফোন সংযোগসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। কার্যত কাশ্মীরের জনগণ বিশ্ব থেকে আলাদা হয়ে পড়ে। এরপর কিছু কিছু এলাকায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলেও পরিস্থিতিতি এখনও থমথমে। নিরাপত্তাবাহিনীর কড়া নজরদারিসহ বেরিকেড রয়েছে অনেক এলাকায়।
এতকিছুর পরও থেমে নেই এই অঞ্চলের তরুণ-তরুণীদের বিয়ে। এরমধ্যে এখন চলছে বিয়ের মৌসুম।
তিন দিনব্যাপী বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল আরশির পরিবারের। এরমধ্যে ছিল জাকজমকপূর্ণ মেক-আপ পর্ব, সংগীতানুষ্ঠান এবং আমন্ত্রিত সাত শতাধিক অতিথির উপস্থিতিতে ঐতিহ্যবাহী খাওয়ার আয়োজন ‘‘ওয়াজওয়ান’’।
কিন্তু নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে এত বড় আয়োজনের পরিকল্পনা বাদ দিয়েছে আরশির পরিবার। আত্মীয়-স্বজন যদি বাড়ি থেকে বের হতে পারে তাহলে ৪০ জনের মতো অতিথি নিয়েই বিয়ের আয়োজন শেষ করবে তারা।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে আরশি বলেন, আড়ম্বরপূর্ণভাবে বিয়ে হবে আমার-এমন স্বপ্ন দেখেই বড় হয়েছি। কিন্তু পরিস্থিতির কারণে তা আর হয়ে উঠলো না। খুব সাদামাটা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। এরপরও দুই পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে চলাচলের বিষয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।
স্থানীয় বাসিন্দা বিলাল বলেন, পরিবারগুলো বিয়ের উৎসবের জন্য বছরের পর বছর ধরে টাকা জমায়। তাই যখন এই মাসেই আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে কেবল ১৫ শতাংশ আমার ভাইয়ের বিয়েতে এসে উপস্থিত হন, “এটা আমাদের পরিবারের জন্য এটা খুবই মন খারাপের বিষয় ছিল,” জানান তিনি।
এমনকি বিয়ের প্রস্তুতির জন্য জিনিসপত্র সরবরাহকারী এবং ইভেন্ট ম্যানেজারদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা অসম্ভব হয়ে উঠেছিল অনেকের কাছে।







