রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ভারতের বাংলা গানের এ সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক এবং দোহার গানের দলের শিল্পী কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্যের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় গতকাল মঙ্গলবার রাতে। কেওড়াতলা মহাশ্মশানে এ সময় ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়া হয়। এর আগে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্ত শেষে বিকালে কালিকাপ্রসাদের দেহ নিয়ে আসা হয় তাঁর সন্তোষপুরের বাসায়। পথে নবান্নের সামনে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিকাল সাড়ে চারটায় তাঁর দেহ রবীন্দ্রসদনে নেওয়া হয়। সেখানে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সাহিত্য, নাটক, চলচ্চিত্র আর সংগীতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্যের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার জন্য কাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কলকাতায় যান ‘ভুবন মাঝি’ ছবির পরিচালক ফাখরুল আরেফীন খান ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ। ‘ভুবন মাঝি’ ছবির একটি বাদে সবকটি গানের সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য। ইদানিং খুব জনপ্রিয় হওয়া ছবির ‘আমি তোমারই নাম গাই’ গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি।
আজ বুধবার দুপুরে কলকাতা থেকে মুঠোফোনে ফাখরুল আরেফীন খান জানান, গত রাতে তারা কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্যের বাসায় যান। তারা প্রয়াত এই সংগীতশিল্পীর স্ত্রী ঋতুচেতা গোস্বামী ও তার মেয়ে আশাবরীর সঙ্গে কিছুটা সময় কাটিয়েছেন। আজ সকালে তারা ছুটে গেছেন দোহার গানের দলের অন্য সদস্যদের কাছে, তাদের সর্বশেষ অবস্থা জানার জন্য।
ফাখরুল আরেফীন খান জানান, গাড়িতে কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্যের সঙ্গী সন্দীপন পাল ও প্রদীপ্ত চক্রবর্তী ঘাড় ও মেরুদন্ডে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। তাঁরা কলকাতায় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। কাল বৃহস্পতিবার সন্দীপন পালের দেহে অস্ত্রোপচার করা হবে। গাড়ির চালক অর্ণব রাও আর আর নীলাদ্রি রায় বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। রাজীব দাস গতকাল বিকালেই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। তিনি এখন বাসায় বিশ্রামে আছেন।

কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্যের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বাংলাদেশের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্যের পরিবারের কাছে পাঠানো শোক বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য বাঙালি সংস্কৃতির এক প্রাণপুরুষ। তিনি অধ্যবসায়, পরিশ্রম, মেধা ও সৃজনশীলতার সমন্বয়ে আজীবন বাঙালি সংস্কৃতির চর্চা ও বিকাশে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। তিনি বাংলা গানকে বিশেষ করে ফোক গানকে এক অসামান্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান সাংস্কৃতিক বিনিময় কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার অকাল প্রয়াণ আমারে সংস্কৃতির অঙ্গনের জন্য এক অপুরণীয় ক্ষতি। তিনি আমাদের হৃদয়ে থাকবেন সবসময়।’
এদিকে সিউড়ির বিদ্যাসাগর কলেজের যে অনুষ্ঠানে গতকাল মঙ্গলবার বিকালে দোহার গানের দলের গান গাওয়ার কথা ছিল, পরে সেই গানের অনুষ্ঠান রূপ নেয় স্মরণ অনুষ্ঠানে।

দোহারের সহস্রতম স্টেজ শো।










