স্থানীয়ভাবে কার ও মটরসাইকেল উৎপাদনে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া।
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রাজস্ব ভবনের সভাকক্ষে রোববার বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস (একবার ব্যবহৃত) ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস এসোসিয়েশনের (বারভিডা) নেতাদের সঙ্গে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছরে দেশে বেশ কয়েকটি গাড়ি সংযোজন শিল্প গড়ে উঠেছে। অনেক প্রতিষ্ঠানই এখন মটর সাইকেল সংযোজন করছে। মটর সাইকেল সংযোজনে পাঁচ বছরের বিশেষ অব্যাহতির সুযোগ দেয়া হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য আমদানি নিরুৎসাহিত করা। দেশে পণ্য উৎপাদন হলে কল কারখানায় কর্মসংস্থানও বাড়ে। তাই গাড়ি উৎপাদন বা সংযোজন করলে এনবিআর বিশেষ সুবিধা দেবে।’
সভায় রি-কন্ডিশন কার আমদানিতে শুল্ক কমানোসহ সংগঠনের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হলে- এনবিআর চেয়ারম্যান সবক্ষেত্রে কর হ্রাসের চিন্তা থেকে ব্যবসায়ীদের বেরিয়ে আসার আহবান জানান।
এরপর তিনি বলেন, ‘সব ক্ষেত্রে ট্যাক্স রিডাকশন (কর হ্রাস) আশা করবেন না। প্রতি বছর বাজেটের আকার বাড়ছে। গতবারের চেয়ে এবারের বাজেটের আকার কমপক্ষে ৫০ হাজার কোটি টাকা বেশি হবে। সেজন্য রাজস্ব আয় ৩০ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা বাড়াতে হবে। তবে রাজস্ব আয়ের উৎস সীমিত। তাই ট্যাক্স রিডাকশন দেওয়ার আগে ভাবতে হবে।’
রিকন্ডিশন্ড হাইব্রিড গাড়ি আমদানিতে সিলিন্ডার ক্যাপাসিটি ১৬০০ সিসি পর্যন্ত ২০ শতাংশ শুল্কের স্তরটি উঠিয়ে শুন্য থেকে ১৮০০ সিসি পর্যন্ত ১৫ শতাংশ শুল্ক করার দাবি জানায় বারভিডা। এ ছাড়া সিলিন্ডার ক্যাপাসিটি ১৬০১ থেকে ২০০০ সিসি পর্যন্ত ৪৫ শতাংশ শুল্ক স্তরটি উঠিয়ে ১৮০১ থেকে ২৫০০ সিসি পর্যন্ত ৩০ শতাংশ শুল্ক করার দাবি সংগঠনটি।
এসব দাবি জানিয়ে বারভিাডার সভাপতি হাবিব উল্লাহ ডন বলেন, হাইব্রিড গাড়ি আমদানিতে ১ থেকে ১৬০০ সিসির স্তরে যে শুল্ক প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে, তার সুফল খুব একটা মিলছে না। কারণ হাইব্রিড প্রযুক্তিতে তৈরি হওয়া গাড়িগুলো ১৮০০ সিসির নিচে হয় না। ফলে সিসি স্তরটি পরিবর্তন করা প্রয়োজন।
হাইব্রিড গাড়ির বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে সিসির স্তরটি বাস্তবসম্মত করতে কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিকভাবে নির্দেশনা দেন এনবিআর চেয়ারম্যান।
বৈদ্যুতিক ব্যাটারিচালিত রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিতে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্কের পুরোটা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে হাবিব উল্লাহ বলেন, বিদ্যুৎ-চালিত কার আট ঘন্টা চার্জ দিলে ১৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত যাওয়া যায়।এটি জনপ্রিয় করা গেলে জ্বালানি তেলের ওপর চাপ হ্রাসের পাশাপাশি পরিবেশের দূষণ কমানো সম্ভব।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘ইউরোপ-আমেরিকায় বিদ্যুৎ-চালিত গাড়ি চালু হয়েছে। আপনারা চাইলে বিদ্যুৎ-চালিত গাড়ি আমদানি করতে পারেন। আমরা শুল্ক একেবারে শুন্য করার কথা বলছি না, তবে কিছুটা কমানো হতে পারে। তাতে যদি কিছু কার আসে।’
করহ্রার হ্রাস করার দাবির প্রেক্ষিতে মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, বাংলাদেশে কর-জিডিপি অনুপাত খুবই কম। এটি বাড়াতে হবে। মাথাপিছু আয় বাড়ার সঙ্গে রাজস্ব আহরণ বাড়েনি। ফলে রাজস্ব আয় বাড়ানো যায় কিভাবে-এমন প্রস্তাব আমরা আশা করছি।








