রাত পোহালেই পর্দা উঠছে কান চলচ্চিত্র উৎসবের! প্রতিবছর পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন এবং প্রভাবশালী চলচচ্চিত্র উৎসব বসে ফ্রান্সের কান শহরে। চলচ্চিত্রের এই উৎসবকে ঘিরে চলে নানা বিলাসবহুল আয়োজন। দক্ষিণ ফ্রান্সের রিসোর্ট শহর কানে থাকে উৎসবের আমেজ! আর এই আমেজের ইতিবাচক প্রভাব পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উপরেও।
সবুজ গাছপালা ঘেরা ছবির মত সুন্দর শহর ফ্রেঞ্চ রিভিরার অবস্থান দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ভূমধ্যসাগর উপকূলে। বছরের সবসময়েই পর্যটকদের আনাগোনা থাকলেও কান উৎসবের বিষয়টি আলাদা। প্রচুর পর্যটকের পাশাপাশি পুরো বিশ্বের নামি তারকা, নির্মাতা, সাংবাদিক, ফিল্ম সমালোচকদের মেলা বসে এই শহরে। রিসোর্টগুলোর জন্য কান উৎসব হলো সোনার ডিম পাড়া হাসের মতো।
ফ্রেঞ্চ রিভিরা রিসোর্টের রিসেপশনিস্ট জানান, কান উৎসব শুরুর সাথে সাথে শহরের টু স্টার হোটেলের রুমগুলোর এক রাতের ভাড়া হয়ে যায় ৪০ ইউরো (৪৫ ডলার) থেকে ২৬০ ইউরো। তবে এই সময়ে শহরের জনসংখ্যা প্রায় তিনগুণ বেড়ে যায়। তাই আশেপাশের রিসোর্টগুলোও পর্যটকে ভরপুর থাকে এই সময়ে। ফ্রেঞ্চ রিভিরা থেকে কয়েক মিনিট হাঁটার দূরত্বে যেই থ্রি-স্টার হোটেলগুলো আছে সেগুলোর ভাড়া ৭১ ইউরো থেকে পাঁচগুণ বেড়ে ৩৫০ ইউরো হয়ে যায়। তাও এই ভাড়ার সঙ্গে নাস্তা সংযুক্ত না। নাস্তা খেতে চাইলে আলাদা অর্থ গুণতে হয়।
শেষ মুহূর্তের জন্য ছয়টি রুম হাতে রাখে বেশিরভাগ হোটেল। কিন্তু সেগুলোও রাখা যায় না এই সময়ে। পর্যটকরা আগে থেকে রুম বুকিং না দিয়ে আসলে বিপদে পড়তে হয় রুম সংকটের কারণে।
দিনে দিনে কান শহরটি আরও বেশি লাভজনক হয়ে উঠছে স্থানীয়দের জন্য। কনফারেন্সের শহরে পরিণত হয়েছে এটি। মার্চে এমআইপিআইএম হয়, পৃথিবীর সবচাইতে বড় প্রোপার্টি কংগ্রেস। এই সময়েও প্রায় ৪০০০০ অতিথির সমাগম হয় শহরে।
পালে দে ফেস্তিভাল্স এ দে কোঁগ্র নামক ভবনটিতে মূল উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। কান উৎসবের জন্যই এই ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল। এই ভবনের কাছের হোটেলগুলো বছরের ছয় ভাগের এক ভাগ আয় করে কান উৎসবের সময়টাতে। ২০১৭ সালে কান উৎসবের কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আয় হয়েছিল ১৯৭ মিলিয়ন ইউরো। তবে এই আয় আরও বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন হোটেল মালিকরা।

ইউএমআইএইচ এর ক্রিস্টাইন ওয়েলটার বলেন, প্রথম সপ্তাহেই হোটেলগুলো ভরে যায়, দ্বিতীয় সপ্তাহে রুম পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। এসময়ে অনেক বাড়িও হোটেল হিসেবে ভাড়া দেয়া হয়। এছাড়া আগের মতো এখন আর লম্বা সময় ধরে পর্যটকরা থাকেন না।
তিনি আরও মনে করেন, পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। নেটফ্লিক্সের ছবি হলে মুক্তি না পাওয়ার কারণে কান উৎসবে আসতে পারছে না। এর প্রভাব পড়ছে কান উৎসবের লোক সমাগমে।
শুধু যে হোটেলের রুমের দাম বাড়ে তাই নয়, এই সময়ে বেড়ে যায় রেস্তোরাঁর খাবারের দামও। নানা দেশের মানুষের চাহিদা মতো খাবার পরিবেশন করা এই হোটেলগুলো স্থানীয় জনপ্রিয় খাবারগুলোর দাম বাড়িয়ে দেয় কান উৎসবের সময়। হোটেলের পাশের রেস্তোরাঁগুলোতে খাবারের দাম সবচেয়ে বেশি থাকে।
একটি ইতালিয়ান রেস্তোরাঁ চালান পাসকাল হামার্দ। তিনি জানান ১১ দিনে প্রায় ৫০০০ মানুষের খাবার পরিবেশন করা হয় তার রেস্তোরাঁয়। খুব ভিড় থাকে। বছরের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ সময় এটা তাদের জন্য। তবে আগে আরও বেশি ব্যবসা হতো বলে মনে করেন হামার্দ। তার কাছে মনে হয়, এখন মানুষ কম বাজেট নিয়ে কান উৎসবে আসেন।
মঙ্গলবার (১৪ মে) পর্দা উঠছে বিশ্বের প্রাচীন ও সম্মানজনক ‘কান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব’-এর ৭২তম আসরের। যে আসরে বিচারক প্যানেলে চারজন নারী ও চারজন পুরুষ সদস্য রয়েছেন। যার নেতৃত্বে রয়েছেন মেক্সিকান নির্মাতা আলেহান্দ্রো গঞ্জালেস ইনারিতু।
এবারের উৎসবে ‘স্বর্ণপাম’ প্রতিযোগীতায় স্থান পেয়েছে মোট ১৯টি সিনেমা। এছাড়াও ‘আউট অব কম্পিটিশন’–এর আছে ৫টি সিনেমা। আঁ সারতে রিগার বিভাগের জন্য নির্বাচিত হয়েছে ১৬টি ছবি এবং আরো ৬টি সিনেমার আছে স্পেশাল স্ক্রিনিং বিভাগের জন্য।
এবারের কান চলচ্চিত্র উৎসবের পর্দা উঠবে মার্কিন পরিচালক জিম জারমুশ পরিচালিত ‘দ্য ডেড ডোন্ট ডাই’ ছবিটির প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে। ২৫ মে আড়ম্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে পৃথিবী খ্যাত এই চলচ্চিত্র উৎসবটির। -গালফ নিউজ







