দানিশ কানেরিয়াকে নিয়ে বিতর্ক কমছে না। উল্টো উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে। অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মধ্যেই কানেরিয়া তার নতুন ইউটিউব ভিডিওতে ‘জয় শ্রীরাম’ বলে কথা শুরু করায় তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন বিতর্ক। পাকিস্তানের অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, ভারত-পাকিস্তান রাজনৈতিক ডামাডোলকে তিনি কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন। শুধু তাই নয়, ভিডিও’র শেষে তিনি শুধু পাকিস্তান নয়, ভারতের কথাও উল্লেখ করে বলেছেন, ‘পাকিস্তান ও ভারতের সমর্থকদের কাছে অনেক ভালোবাসা পেয়েছি। আমি কৃতজ্ঞ।’
জাভেদ মিয়াঁদাদ বলেছিলেন, ‘টাকার জন্য সব করতে পারে কানেরিয়া।’ ইনজামাম-উল হক, মোহাম্মদ ইউসুফও বলেছেন, কানেরিয়া পাকিস্তানের হয়ে খেলার সময় তারা কোনো রকম ধর্ম বৈষম্যমূলক ঘটনার সাক্ষী ছিলেন না। যার পাল্টা দেন কানেরিয়া।
কানেরিয়ার বিস্ফোরক মন্তব্য, ‘এখানে তো অনেকে দেশকে বিক্রি করে দিয়েছে। জেলও পর্যন্ত হয়েছে তাদের। তারপরও তাদের দলে স্বাগত জানানো হয়েছে। ফিক্সিংয়ের সঙ্গে যারা জড়িত, তারা পাকিস্তান ক্রিকেটের বড় পদে বসে আছে। আমি তো তেমন নই!’
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে পাকিস্তানের এই সাবেক এই স্পিনার পাল্টা আক্রমণ করেন ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে থাকা একঝাঁক পাকিস্তানি খেলোয়াড়কে। তিনি বলেন, ‘যারা বলছে, প্রচারের জন্য, টাকার জন্য এসব কথা আমি বলছি, তাদের মনে করিয়ে দিতে চাই যে, আমি কিন্তু নিজে থেকে এটা বলিনি। এটা বলেছে শোয়েব আখতার। আমি সব সময় ক্রিকেটেই ফোকাস করেছি। কখনো তার বাইরের ঘটনা তুলে আনতে চাইনি।’
এরই মধ্যে শোয়েব আবার উস্কে দিয়েছেন কানেরিয়া বিতর্ক। আরেকটি ইউটিউব চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাতকারে সাবেক পেস বোলার বলেছেন, ‘আমরা সামাজিক মানুষ। আর তাই এটা বন্ধ করতে হবে। যে খেলোয়াড়রা এটা করত, তাদের আমি বলেছিলাম, এমন চলতে থাকলে কিন্তু আমি তোমাদের দলে থেকে বের করে দেব। কারণ, এটা আমাদের সংস্কৃতি নয়।’
কানেরিয়া বলেছেন, ‘দশ বছর আমি কিন্তু পারফর্ম করে গেছি। এমন নয় যে কারও জায়গা আটকে রেখে খেলেছি। যারা বলছে, আমি ফিক্সিং করেছি, তারা আমার বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ রয়েছে, তা আগে জানুক।’
‘ম্যাচ ফিক্সিং কখনো করিনি। অনেকে আমার মামাতো ভাই অনিল দলপতকে জুড়ছে এই ঘটনায়। অনিলকে জিজ্ঞেস করলেই জানা যাবে, তাকে একটা সময় কী পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে।’
শোয়েবও বলেছেন, ‘কানেরিয়াকে নিয়ে আমার করা মন্তব্য নিয়ে অনেকে নানা কথা বলছে। অনেকেই ব্যাপারটা অন্যভাবে নিয়েছে। যেকোনো দলে একটা অলিখিত শর্ত থাকে, একে অপরকে সম্মান করো। কিন্তু ওই সময় দলে দু-একজন খেলোয়াড় ছিলেন, যারা বর্ণবৈষম্যমূলক মন্তব্য করত। এগুলো নিয়ে এবার সবাইকে সতর্ক হতে হবে।’
কাউন্টি খেলার সময় ম্যাচ ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে ক্রিকেট থেকে আজীবন নিষিদ্ধ হয়েছেন কানেরিয়া। পাকিস্তানও তার পর তাকে আর দলে জায়গা দেননি। যা নিয়েও যথেষ্ট ক্ষোভ রয়েছে তার। কানেরিয়ার সাফ বক্তব্য, ‘আমি এতদিন দেশের কাছে, বোর্ডের কাছে সাহায্য চেয়েছি। কিন্তু কখনো করা হয়নি। কেউ কি জানে, আমি দশ বছর ধরে কোনো কাজ করি না। পরিবার আমারও রয়েছে। কিন্তু আমার কথা কেউ কখনো ভাবল না কেন, এটা কি ভেবে দেখা হয়েছে?’







