কাতারের সঙ্গে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সম্পর্কচ্ছেদ এবং পরবর্তী পরিস্থিতিকে তাদের ‘নিজস্ব ব্যাপার’ হিসেবে উল্লেখ করে এই সঙ্কট ভারতের জন্য কোন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেনি বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সুষমা স্বরাজ জানান, আপাতত ভারতের প্রথম চিন্তা হচ্ছে কাতারে থাকা ভারতীয়দের কেউ ওই কূটনৈতিক ও পরিবহনজনিত সম্পর্কচ্ছেদের কারণে বিপদে পড়ছে কি না তা দেখা।
‘এখান থেকে আমাদের জন্য কোন ধরণের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়নি। এটি জিসিসি’র (গালফ কর্পোরেশন কাউন্সিল) অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। এ পরিস্থিতিতে আমাদের দেখার বিষয় হলো কোন ভারতীয় ওখানে আটকা পড়ে যাচ্ছে কি না।’
তিনি বলেন, ওই অঞ্চলে থাকা ভারতীয় মিশন বিপদে পড়া ভারতীয়দের খুঁজছে। এমন কাউকে পাওয়া গেলে তাদেরকে ভারতে ফিরিয়ে নেয়া হবে।
সার্বিকভাবেও এই কূটনৈতিক জটিলতায় বড় কোন সমস্যা হবে না বলে সুষমা স্বরাজ মনে করছেন।
তিনি বলেন, ২০১৪ সালেও সৌদি আরব, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত মুসলিম ব্রাদারহুডকে সমর্থন এবং আল-জাজিরা নিউজকে অর্থায়নের অভিযোগে ৮ মাসের জন্য কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বাতিল করেছিল।
সুষমা স্বরাজ জানান, ‘যদি কোনো অঞ্চলের সঙ্গে ভারতের চিরকালীন সুসম্পর্ক থেকে থাকে, সেটি হচ্ছে গালফ (উপসাগরীয় অঞ্চল)। এছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চলের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক রয়েছে। এ কারণেই ওই দেশগুলোর যুদ্ধ কবলিত এলাকাগুলো থেকে আটকে পড়া ভারতীয়দের সহজেই দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।’
জঙ্গিবাদ সমর্থন করে উপসাগরীয় অঞ্চল অস্থিতিশীল করার অভিযোগে সোমবার কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে সৌদি আরব, মিশর, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে ইয়েমেন ও মালদ্বীপ।
দেশটির সঙ্গে স্থল, বন্দর এবং আকাশপথে পরিবহন ব্যবস্থাও বন্ধ করার ঘোষণা দেয় দেশগুলো।
সৌদি আরবে কাতারের সব প্লেন অবতরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে ইউএই-মালিকানার ইতিহাদ এয়ারওয়েজ এবং এমিরেটস দোহাগামী সব ফ্লাইট বাতিল করে দিয়েছে।
ইয়েমেনের হাউদি বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুদ্ধরত সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট থেকেও কাতারকে বের করে দেয়া হয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, কাতারের কর্মকাণ্ড সন্ত্রাসবাদকে শক্তিশালী করে।
এছাড়াও আল-কায়েদা ও আইএসের মতো জঙ্গি সংগঠনকে মদদ দেয়া এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক রাখার অভিযোগও তোলা হয়েছে দেশটির বিরুদ্ধে।
বর্তমানে কাতারে প্রায় ৬ লাখ ভারতীয় বসবাস করছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের সার্বিক সুবিধা-অসুবিধাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত সরকার।








