অভিবাসী শ্রমিকের সঙ্গে অসদাচরণসহ নানা বিষয়ে কাতারের মানবাধিকার পরিস্থিতি প্রশ্নবিদ্ধ। আসছে ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজকদের নিয়ে প্রায়ই হয় সমালোচনা। দেশটির এমন পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলছেন হ্যারি কেন। ইংল্যান্ড অধিনায়ক বিশ্বকাপের আগে কাতারের মানবাধিকার বিষয়গুলো তুলে ধরতে অন্যদেশের অধিনায়কদের সঙ্গে কথা বলার পরিকল্পনাও করছেন।
‘খেলোয়াড় হিসেবে আমরা এই বিশ্বকাপ কোথায় হতে চলেছে তা নির্ধারণ করিনি। কিন্তু এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর উপর আলোকপাত করেছে। যা বিশ্বকাপ না থাকলে হয়তো আলোকিত হতো না।’
বছরের শেষভাগে কাতারে বসবে ফুটবলের বিশ্বযজ্ঞ। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি আয়োজনে জাঁকজমকতা ও বিপুল অর্থ ব্যয় করতে কার্পণ্য করছে না। অত্যাধুনিক সব স্টেডিয়াম নির্মাণ করে তাক লাগিয়ে দিচ্ছে। তবে অভিবাসী শ্রমিকদের মানবাধিকার নিয়ে প্রায়ই জলঘোলা হয়। হ্যারি কেনের দৃষ্টি সেদিকেই।
‘আমাদের সমস্যা এবং পরিস্থিতি বোঝার জন্য যতটা সম্ভব সাহায্য করার চেষ্টা করতে হবে। এই মুহূর্তে আমরা যা জানি, তার প্রেক্ষিতে সেই বিষয়ের কোনো বিশেষজ্ঞ নই। তবে সবসময়ের মতো আমরা যেকোনো উপায়ে সাহায্য করার চেষ্টা করি। আমরা সাহায্য করার জন্য আমাদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করার চেষ্টা করব।’
‘বুঝতে পারছি দেশটিতে কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। আমার প্রত্যাশা সেখানে বিশ্বকাপ হওয়া এবং দেশের উপর দৃষ্টি রাখা কিছু সমস্যার সমাধান করতে সাহায্য করবে, যা দীর্ঘদিন ধরে চলছে।’
টটেনহ্যাম হটস্পারে কেনের সতীর্থ ফ্রান্সের হুগো লরিস ও সাউথ কোরিয়ার সন হিউং-মিন। তাদের সঙ্গে কাতারের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার আগ্রহের কথাও জানান ইংলিশ অধিনায়ক।
‘টটেনহ্যামে আমার দলে আরও কয়েকজন জাতীয় দল অধিনায়ক আছে। সম্ভবত অন্য জাতীয় দল অধিনায়কদের সাথে কথা বলব এটা দেখার জন্য যে, আমরা যা করতে পারি তাতে ঐক্যবদ্ধ হতে পারি কিনা। আমি নিজে এবং দলের কিছু সিনিয়র খেলোয়াড়রা আসছে মাসগুলোতে বিষয়টি নিয়ে কিছু আদায়ের চেষ্টা করব।’
মঙ্গলবার ইংল্যান্ড কোচ গ্যারেথ সাউথগেট দলের সঙ্গে ৩০ মিনিটের একটি বৈঠক করেছেন। সেখানে অভিবাসী শ্রমিকদের সঙ্গে বিশ্বকাপ আয়োজক দেশের আচরণ, দুর্বল মানবাধিকার রেকর্ড নিয়েও আলোচনা হয়। সমকামী, উভকামী ও রূপান্তরকামী সম্প্রদায়ের প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির অবস্থান নিয়েও হয়েছে কথা।
গত সপ্তাহে সাউথগেট বলেছিলেন, নভেম্বরে শুরু হতে চলা আসরে উপসাগরীয় রাজ্যে ভ্রমণের জন্য যদি কিছু সমর্থক যথেষ্ট নিরাপদ বোধ না করে, তাহলে সেটি ‘ভয়াবহ’ এবং ‘একটি বড় লজ্জা’ হবে।








