বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ, নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।
আজ ৮ জুলাই বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ভিয়েতনাম প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির জননিরাপত্তাবিষয়ক উপমন্ত্রী সিনিয়র লেফটেন্যান্ট জেনারেল নগুয়েন ভ্যান লং।
বৈঠকের শুরুতে ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির ১৪তম জাতীয় কংগ্রেস সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া এবং নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হওয়ায় ভিয়েতনাম সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক পর্যায়ে ভিয়েতনামের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গতিশীল করতে আগ্রহী।
১৯৭৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ভিয়েতনামের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও বহুমুখী অংশীদারিত্বকে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ এবং জনগণের পারস্পরিক সংযোগ বৃদ্ধিতে সন্তোষও প্রকাশ করেন তিনি।
বৈঠকে ভিয়েতনামে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা এবং অনিয়মিত অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এসময় প্রকৃত পর্যটক, ব্যবসায়ী, বৈধ কর্মজীবী ও পারিবারিক ভিসাপ্রত্যাশী বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ করার অনুরোধ জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, মানবপাচার, মাদক চোরাচালান ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ইতোমধ্যে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। প্রেফারেন্সিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট (পিটিএ) স্বাক্ষর হলে অদূর ভবিষ্যতে বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ থেকে আলু আমদানির অনুমতি দেওয়ায় ভিয়েতনাম সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বাংলাদেশি ওষুধ আমদানিরও আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অনুকূল বিনিয়োগ পরিবেশের সুযোগ নিয়ে ভিয়েতনামের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া আসিয়ানে বাংলাদেশের ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ মর্যাদা এবং আরসিইপির সদস্যপদ অর্জনের ক্ষেত্রে ভিয়েতনামের সমর্থন কামনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
জবাবে ভিয়েতনাম প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেয় এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করে।








