ভারতের কলকাতায় যুবনাট্য উৎসবে প্রদর্শনীর জন্য যাচ্ছে মাহফুজা হিলালী রচিত এবং দেবাশীষ ঘোষ নির্দেশিত নাটক ‘রাজার চিঠি’।
ঢাকার জাগরণী থিয়েটার’র ১৫তম প্রযোজনা ‘রাজার চিঠি’। আগামী ১৪ জানুয়ারির উৎসবে নাটকটির আঠারতম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।
একটি ব্যতিক্রমধর্মী কাহিনী নিয়ে গড়ে উঠেছে এ নাটকটি। দেশে নাটকটির ১৪টি প্রদর্শনীর পর এরই মধ্যে দর্শকের প্রশংসা পেয়েছে। প্রথমবারের মতো বিদেশেও নাটকটি দর্শকের মন জয় করবে বলে আশা করছেন জাগরণী থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক স্মরণ সাহা। ১৪ জানুয়ারি কলকাতার বালিগঞ্জে দিলীপ স্মৃতি ক্লাব প্রাঙ্গণে যুবনাট্য উৎসবে নাটকটি মঞ্চস্থ হবে।
১৯৩৯ সালে শাহজাদপুরের শ্রী হরিদাস বসাকের জীবন রবীন্দ্রনাথের ‘ঠাকুরদা’ চরিত্রের মতো হয়ে ওঠে। এই কাহিনী নিয়েই ‘রাজার চিঠি’ নাটকটি লেখা। রবীন্দ্রনাথের কাছে চিঠি লিখেন হরিদাস। এ নিয়ে তার পরিবার-পরিজন এবং বন্ধুবান্ধব হাসাহাসি করেছিল। কিন্তু দেখা যায়, একদিন রবীন্দ্রনাথ সে চিঠির উত্তর দিয়েছেন। এ সময় হরিদাস বসাককে সবাই সমীহ করতে শুরু করে। অন্যদিকে হরিদাস বসাক ও সাহিত্য সংস্কৃতির কাজে নিজেকে সঁপে দেন। সময়ের প্রবাহে আসে ১৯৪৭ সাল। এ সময় অনেকেই দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যায়। কিন্তু যে ঠিকানায় রবীন্দ্রনাথ তাকে চিঠি লিখেছেন, সে ঠিকানা হরিদাস বসাক বদল করতে চাননা।
নাটকে ১৯৪৭ সালের দেশবিভাগের চিত্র এবং হরিদাস বসাকের মাতৃভূমি আঁকড়ে থাকা দেখা যায়। এরপর আসে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। যুদ্ধের ভয়াবহতায় হরিদাস বসাকের স্বপ্নভঙ্গ হয়। পুড়িয়ে ফেলা ঘর দুয়ারের সামনে দাঁড়িয়ে হরিদাস বসাক সে দিন তাঁর আত্মজনের খোঁজ নেন না, শুধু শিশুর মতো হাহাকার করেন চিঠিটির জন্য। এ অবস্থায় পাকিস্তানি আর্মি এসে দাঁড়ায় হরিদাস বসাকের সামনে। তার মুখে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম শুনে আর্মিরা তাকে বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে।
নাটকটিতে অভিনয় করেছেন মাহফুজা হিলালী, দেবাশীষ ঘোষ, স্মরণ সাহা, বাহারুল ইসলাম, সোয়েব হাসনাত মিতুল, শাহানাজ আক্তার সিমু, ইয়াসিন শামীম, রফিকুল ইসলাম রনি, সজিব ঘোষ, রিপা হালদার, শাখাওয়াত সজিব,পল্লব সরকার, ও বিপাশা সাহা।










