মঙ্গার অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়েছে দেশের উত্তর জনপদ। শিল্পায়নের কারনে কর্মসংস্থান বাড়ায় মাথাপিছু আয় বেড়ে গেছে রংপুর অঞ্চলে। পরিসংখ্যানের দিক দিয়ে খুলনা এবং বরিশাল বিভাগের চেয়েও এগিয়ে রংপুর।
বিবিএস বলছে, গত দশ বছরে উত্তরাঞ্চলে গড়ে উঠেছে ১০ লাখ ছোট বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান। কাজ পেয়েছে দেড় কোটি বেকার।
বড় পরিসরে এ এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছে পঞ্চগড়ের চা আর পাথর শিল্প। উত্তরাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি জেলারই শ্রমিক আছে এ দুটি শিল্পে।
গত দশ বছরে শিল্পনগরীর রূপ পেয়েছে এক সময়ের মঙ্গাকবলিত এলাকা নীলফামারী। গরু-মহিষের সিং ও হাড় থেকে বোতাম তৈরি, ফার্নেস অয়েল প্লান্ট, সিরামিক কারখানা, জুটমিলসহ অসংখ্য ক্ষুদ্র মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। রয়েছে রপ্তানী প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকা ইপিজেড। ব্যক্তিখাতেও বড় বিনিয়োগ হয়েছে।
শিল্প উদ্যোক্তা ফারুক হোসেন বলেন, আমরা যখন কোন কল কারখানা করি তখন খুব সহজেই শ্রমিক পেয়ে যাই। ঢাকার চেয়ে জায়গার দাম অনেক কম।
মঙ্গা নেই রংপুর আর কুড়িগ্রামেও। বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি এ দুটি এলাকায় বাড়ি ভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বেড়েছে।
সরকারী হিসেবে গত দশ বছরে এ দুটি এলাকায় গড়ে উঠেছে প্রায় ৬৫ হাজার কুটির শিল্প, সাড়ে ১২ হাজার ক্ষুদ্র শিল্প, ২ টি স্পিনিং মিল, ৫ টি জুট মিল, ৩ হাজার গবাদি পশুর খামার, সাড়ে ৪ হাজার দুগ্ধ খামার ও ৪ হাজার মুরগির খামার।
স্থানীয় শ্রমিকরা বলেন, আগে আমাদের এখানে কোন কোম্পানি ছিলো না। আমরা বেকার ছিলাম। এখন অনেক কারখানা হওয়াতে আমরা ভালো আছি। আগের থেকে অনেক পরিবর্তন হইছে।
কৃষির বহুমুখি উৎপাদন দারিদ্র কমাতে সহায়ক হয়েছে। আগে যেখানে বছরে দুবার ধান উৎপাদন হতো এখন সেখানে উৎপাদন হচ্ছে তিন থেকে চার বার। ফসলেও এসেছে বৈচিত্রতা।
একজন কৃষক জানান, আগেতো ধান কম হইতো- দশ থেকে বারো মণ। এখন আরও বেশি হয়।
সব শেষ অর্থনৈতিক শুমারী অনুযায়ী উত্তরের জেলাগুলোতে এখন খাদ্য দারিদ্রের হার মাত্র ৫ ভাগ আর অনাহারে থাকার হার ৩ ভাগ। মাথাপিছু আয় হয়েছে ৭৮ হাজার টাকা।
অর্থনীতিবিদ খলিকুজ্জামান বলেন, আগে যখন কাজ থাকতো না তখন তারা অনেকটা দুর্ভিক্ষের অবস্থায় পরে যেতো। আর এটা বছরের পর বছর হওয়াতে তাদের স্বাস্থ্যের উপরও একটা প্রভাব পড়তো। আস্তে আস্তে স্বাস্থ্যটা খারাপ হয়ে যেতো। কাজ করতে পারতো না। এখন দেখা যাচ্ছে যে মঙ্গা নেই। কারণ ওখানে অনেক কাজ হয়েছে।
বিবিএসের হিসেব অনুযায়ী গত দশ বছরে উত্তরাঞ্চলে ১৪০ ভাগ হারে আর্থিক কর্মকান্ড বেড়েছে। এসব অগ্রগতির ফলে গত বছরের শেষে উত্তরের জনপদকে মধ্য আয়ের অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করেছে সরকার।








