বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারিকালেও বাংলাদেশে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে। যা অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ।
সদ্য সমাপ্ত বছরে প্রবাসীরা মোট ২ হাজার ১৭৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা ২০১৯ সালের তুলনায় ১৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি। ২০১৯ সালে আয় এসেছিল ১ হাজার ৮৩২ কোটি ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, রেমিট্যান্সে নগদ ২ শতাংশ প্রণোদনা দেয়ায় বৈধ পথে আয় বাড়ছে। এছাড়া আমদানি কমে যাওয়ায় রিজার্ভে হচ্ছে একের পর এক রেকর্ড।
গত বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে দেশে ফিরে আসে বহু প্রবাসী শ্রমিক। এতে রেমিট্যান্সে বড় ধাক্কা লাগে। ফলে মার্চ-এপ্রিলে প্রবাসী আয় কমে যায়। মার্চেই প্রবাসী আয় কমেছিল প্রায় ১২ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে যেখানে ১৪৫ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল। মার্চে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১২৮ কোটি ৬৮ লাখ ডলারে। যা ২০১৯ সালের একই মাসে ছিল ১৪৫ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। করোনা আরও প্রকট হলে এপ্রিলে রেমিট্যান্স আরও কমে হয় ১০৮ কোটি ডলার।
কিন্তু এর পরই ঘুরতে থাকে রেমিট্যান্সের চাকা। ঘটতে থাকে একের পর এক রেকর্ড। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধির নতুন নতুন রেকর্ড হতে শুরু করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, মে মাসে রেমিট্যান্স আসে ১৫০ কোটি ডলার, যা জুনে আরও বেড়ে দাঁড়ায় ১৮৩ কোটি ডলার। আর ঈদের আগের মাস জুলাইয়ে এক লাফে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৬০ কোটি ডলারে। কোনো একক মাস হিসেবে এই আয় এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এরপর আগস্টে ১৯৬ কোটি ডলার, সেপ্টেম্বরে ২১৫ কোটি ডলার, অক্টোবরে ২১০ কোটি ডলার ও নভেম্বরে ২০৭ কোটি ডলার আসে। আর পুরো ডিসেম্বরের আয় আসে ২০৫ কোটি ডলার।
রেমিট্যান্সের এই উচ্চ রেকর্ডের উপর ভর করে বেড়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও। বছরের শেষ প্রান্তে এসে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যায় রিজার্ভ।
আরও পড়ুন: কিভাবে এত বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স আসছে? দেশের অর্থনীতিতে এর প্রভাব কতটুকু?








