জাপানের ইয়োকোহামা বন্দরে কোয়ারেন্টাইন অবস্থায় নোঙর করে রাখা প্রমোদতরী ডায়মন্ড প্রিন্সেস’র করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত দুই যাত্রী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, মৃত দুই যাত্রীই জাপানি নাগরিক। তাদের বয়স ছিল ৮০ বছরের বেশি। তারা দু’জনেই বার্ধক্যজনিত কিছু রোগেও ভুগছিলেন বলে জানানো হয়েছে।
জাহাজটির মোট হাজার ৭০০ আরোহীর মধ্যে অন্তত ৬২১ জনের দেহে করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ পাওয়া গেছে। চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে এখানেই একসঙ্গে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত মানুষ রয়েছেন।
বিবিসি জানায়, ডায়মন্ড প্রিন্সেসে প্রথম করোনা আক্রান্ত এক ব্যক্তি শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই জাহাজটিকে পুরোপুরি কোয়ারেন্টাইন করে ফেলে জাপান সরকার।
টানা ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন বা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পর্যবেক্ষণের পর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে যেসব যাত্রীর দেহে করোনা ভাইরাস পরীক্ষা নেগেটিভ এসেছে তাদেরকে বুধবার থেকে জাহাজ ত্যাগের অনুমতি দেয়া শুরু হয়। পরের দিন আজ বৃহস্পতিবারও অনেক যাত্রী জাহাজ ছেড়ে গেছেন।
যে দুই যাত্রী বৃহস্পতিবার মারা গেছেন তাদেরকে গত সপ্তাহেই জাহাজ থেকে নামিয়ে নিয়ে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল।
করোনার বিস্তার সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। এমন অবস্থায় জাপান সরকারের ডায়মন্ড প্রিন্সেসে কোয়ারেন্টাইন পরিস্থিতি মোকাবিলা নিয়ে দেশ ও দেশের বাইরে চলছে কঠোর সমালোচনা।
জাপানের অন্যতম স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, কোবে ইউনিভার্সিটির সংক্রামক ব্যাধি বিভাগের অধ্যাপক কেনতারো ইওয়াতা এর আগে ডায়মন্ড প্রিন্সেস ঘুরে এসে বলেছিলেন, জাহাজের ভেতরকার পরিস্থিতি ‘পুরোপুরি বিশৃঙ্খল’।
এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে ইউটিউবে একটি ভিডিও-ও পোস্ট করেছিলেন তিনি, যা পরে কোনো কারণে সরিয়ে নেন।
অন্যদিকে মার্কিন পর্যবেক্ষক কর্মকর্তারা বলেছেন, জাহাজটিতে ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য জাপান যেসব ব্যবস্থা নিয়েছে তা হয়তো যথেষ্ট নয়।
তবে বৃহস্পতিবার জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এর প্রতিবাদ করেছে। মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র প্রফেসর ইওয়াতার সমালোচনার জবাব দিয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত জটিল একটি পরিস্থিতি সামলাতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।









