রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিশ্ব নেতারা নানা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন এই ঘটনায়।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া করোনাভাইরাসের প্রভাবে পুরো বিশ্ব যখন এখনও নাজেহাল অবস্থায় আছে, এই অবস্থায় একটি যুদ্ধ নতুন করে যে সঙ্কটময় পরিস্থিতি তৈরি করবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। রাশিয়ার ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবও ইতিমধ্যে পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতির নানা ক্ষেত্রে। সবমিলিয়ে মারাত্মক একটি সঙ্কটের মুখে পুরো বিশ্ব।
বিশ্বব্যাপী করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৪২ কোটি ৯৭ লাখের ঘর। অন্যদিকে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৫৯ লাখ ৩৫ হাজার। আর গত ২৪ ঘণ্টায় সারাবিশ্বে করোনায় মারা গেছেন প্রায় সাড়ে ১০ হাজার মানুষ। নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় পৌনে ১৮ লাখে। আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বিচারে ইউক্রেন-রাশিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এখনও জটিল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যুদ্ধের কারণে স্বাস্থ্য খাতসহ নানাখাতে মানবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা আছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরুর সাথে সাথে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। বড় ধরনের দরপতন দেখছে বিশ্বের প্রধান শেয়ারবাজারগুলো, বাংলাদেশের শেয়ারবাজারেও বিরাট পতন লক্ষ্য করা গেছে। মুদ্রা বাজারেও বিরাট প্রভাব পড়তে শুরু করেছে, বড় দর পতন হয়েছে ডিজিটাল মুদ্রা তথা ক্রিপ্টোকারেন্সি মার্কেটে। রাশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় গম রপ্তানিকারক। তাই রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শক্ত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়ে তুলবে খাবারের দাম।
এছাড়া রাশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় ধাতু জাতীয় পদার্থ রপ্তানিকারক। এসব ধাতু মোবাইল ফোন ও মোটর ইন্ড্রাস্ট্রির জন্য অপরিহার্য হওয়া বাড়তে পারে এগুলোর দামও।
জ্বালানি তেল ও খাদ্য দ্রব্যের দামের প্রভাব বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশেই পড়বে, তা নিশ্চিত করে বলা যায়। এসব বিষয়ে লক্ষ্য রেখে প্রস্তুতি নেয়া খুবই জরুরি বলে আমরা মনে করি। দ্রুত যুদ্ধ বন্ধ না হলে পুরোবিশ্ব মারাত্মক সঙ্কটে পড়বে।
বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিশ্ব নেতারা কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন বলেও আমাদের আশাবাদ।








