বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, চীনে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে, ফলে ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আমাদের যেটুকু ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব।
রোববার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (বিআইসিসি) আয়োজিত কর্মশালায় ‘নিউ ইনকোটার্মস-২০২০ রুলস’ এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে সারা পৃথিবী তোলপাড়। এর ফলে যে ক্ষতি হচ্ছে, তা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। ক্ষতির পরিমাণ এখনও জানা যায়নি। বিশ্বে আমাদের দূতাবাসগুলোও কাজ করছে। চীনের পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। তাদের ব্যবসা বাণিজ্য খুলছে, আশা করি ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হবে।
‘‘বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে করোনা ভাইরাসের প্রভাব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সরকার এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। প্রয়োজনে সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে। ব্যবসায়ীরা খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাদের প্রণোদনা দেয়া হবে কি না সরকার তা পর্যবেক্ষণ করছে।’’
অর্থ পাচার নিয়ে তিনি বলেন, আমদানি-রপ্তানির আড়ালে অর্থপাচারের ঘটনায় আমাদের কিছু করার নাই। তবে সরকার অর্থপাচারের বিষয়ে তদন্ত করছে, খোঁজ নেয়া হচ্ছে। যে কোনো মূল্যেই হোক টাকা পাচার বন্ধ করতে হবে।
টিপু মুনশি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাণিজ্যে নতুন নতুন সমস্যা দেখা দেয়। এজন্য প্রচলিত নিয়ম-কানুনগুলোরও পরিবর্তন প্রয়োজন হয়। বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার সহায়তায় সময়ে সময়ে তালমিলিয়ে নতুন নিয়ম প্রবর্তন করা হয়। এজন্য নিউ ইনকোটার্মস-২০২০ রুলস চালু হতে যাচ্ছে।
‘‘বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান। বিদেশি বিনিয়োগও বাড়ছে। গত বছর ৮ দশমিক ১৫ ভাগ জিডিপি অর্জিত হয়েছে। এবছর জুলাই-অক্টোবর সময়ে দেশে ৫ দশমিক ০৯ বিলিয়ন ডলার সিরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে। গতবছর দেশের রপ্তানি আয় ছিল ৩৯ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার।বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সব ক্ষেত্রে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ আগামী ২০২৪ সালে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে। তাই প্রতিযোগিতা করেই বাংলাদেশকে বিশ্ববাণিজ্যে এগিয়ে যেতে হবে। বাণিজ্য বাড়ার সাথে সাথে বাণিজ্য বিরোধও বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক।’’
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অফ কমার্স এর প্রেসিডেন্ট মাহবুবুর রহমান, মিউচুয়াল ট্রাষ্ট ব্যাংক এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সৈয়দ মাহবুবুর রহমান এবং আইসিসি বাংলাদেশ ব্যাংকিং কমিশনের চেয়ারম্যান এবং সিইও মুহাম্মদ এ রুমি আলী।







