পাঁচ দিনের টেস্টের প্রথম দুদিন ভেসে গেছে বৃষ্টিতে। তৃতীয় দিনের খেলাও প্রায় এক সেশন হয়নি, বৃষ্টির কারণেই। প্রকৃতির বাধায় আড়াই দিনে নেমে আসা ম্যাচেও ইনিংস হারের চোখ রাঙানি বাংলাদেশের সামনে।
২২১ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়বার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩ উইকেট হারিয়ে ৮০ রান তুলে চতুর্থ দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। ওয়েলিংটনে ইনিংস হার এড়াতেই টাইগারদের করতে হবে আরও ১৪১ রান।
হ্যামিল্টনে প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ৫২ রানে জেতে নিউজিল্যান্ড। আবারও তেমন শঙ্কার পথে সফরকারীরা। তবে তামিম ইকবাল বলছেন, ম্যাচ বাঁচানো কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। টাইগার ওপেনারের মতে, ক্রিকেটে যেকোনো কিছুই সম্ভব।
বৃষ্টির কারণে সময় কম পেলেও রান কম তোলেনি নিউজিল্যান্ড। শুরুতে উইকেট হারালেও আগ্রাসী ব্যাটিং করেছে স্বাগতিকরা। তাতে অবশ্য বাংলাদেশের ফিল্ডারদেরও দায় আছে। ডাবল সেঞ্চুরিয়ান রস টেলরের দেয়া দুটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেছে সফরকারী ফিল্ডাররা। যার খেসারত হিসেবে মাথার উপর লিডের পাহাড়।
চাপ আর গতির ঝড়ে শেষ সেশনে টপঅর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে পরাজয়ের শঙ্কায় বাংলাদেশ। ৭ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ শেষদিন পুরোটা কাটানোর। কাজটা কঠিন, তবুও সতীর্থদের উপর আশা রাখছেন তামিম।
‘কঠিন তো অবশ্যই। কিন্তু ক্রিকেটে যেকোনো কিছুই সম্ভব। যেহেতু এখনো আমাদের হাতে ৭ উইকেট আছে। রিয়াদ ভাই, লিটন এরা এখনো আছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে প্রথম সেশনে যদি কোনো উইকেট না হারাই বা বড়জোর এক উইকেট হারাই। কঠিন, কিন্তু সম্ভব।’
টেস্ট সিরিজে টানা তিন ইনিংসে ফিফটির নিচে আউট না হওয়া তামিম এই ইনিংসে ফেরেন ৪ রান করে। আরেকবার ব্যর্থ হয়েছেন মুমিনুল হক। সাদমান ইসলাম দৃঢ়তা দেখালেও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। এ অবস্থায় সৌম্য সরকার আর মোহাম্মদ মিঠুন শুরু করবেন শেষদিনের খেলা। তাদের কাছ থেকে কী আশা করছেন? তামিমের জবাব, ‘সবারই একটা আশা, লম্বা সময় ব্যাট করা। এছাড়া আর কী আশা করার আছে।’
সৌম্য-মিঠুনকে বাদ দিলে বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান উইকেটে আসা বাকি দুজন, মাহমুদউল্লাহ ও লিটন দাস। এরপরই টেল এন্ডাররা। তামিম তাই স্বীকৃত ব্যাটসম্যানদের কাউকেই লম্বা সময় ব্যাট করার প্রত্যাশা করছেন, ‘আশা একটাই- দীর্ঘ সময় ব্যাট করা। আজ যদি একটা উইকেট পড়ত, আমারা তাহলে খুব ভালো অবস্থানে থাকতাম ম্যাচটা ড্র করার জন্য। যেহেতু তিন উইকেট পড়ে গেছে তাই কাজটা কঠিন।’
ক্যাচ মিস নিয়ে তামিম বললেন, ‘সবচেয়ে খারাপ ব্যাপার হল, আমরা এমন একজনের ক্যাচ মিস করেছি যে দুইশো মেরে দিয়েছে। যদি না হতো, আমরা ওকে আউট করতে পারতাম। এক দুইটা উইকেট তখন নিতে পারলে আজ আমাদের আরও কম সময় ব্যাট করা লাগত। ক্যাচ একটা এমন জিনিস, যে কেউ মিস করতে পারে। মিস করাটা খারাপ কিন্তু এটা হয়ে যায়।’
ফিল্ডারদের ব্যর্থতার দিনে ঝড়টা সইতে হয়েছে বোলারদের। হতাশার মধ্যে তাদের আগলেই রাখছেন তামিম, ‘সবার একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, যে তিনজন খেলছে (আবু জায়েদ, ইবাদত, খালেদ) খুবই নতুন। আমরা যাদের সঙ্গে খেলেছি তাদের দুজনেরই (সাউদি-বোল্ট) প্রায় আড়াইশ-আড়াইশ উইকেট আছে। মূল বিষয় হল ওরা এখান থেকে শিখুক, না শিখলে সেটা সমস্যা। তবে যদি তারা এখান থেকে শিখে ভবিষ্যতে কাজে লাগায়, তাহলে আমাদের জন্য প্লাস পয়েন্ট।’








