এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নারী ইন্টার্ন চিকিৎসককে যৌন হয়রানি ও অশালীন আচরণের অভিযোগে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতিতে চিকিৎসা সেবায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল চলমান কর্মবিরতিতে দুর্ভোগে পড়েছে হাসপাতালে চিকিৎসারত প্রায় ৯ শতাধিক রোগী ও তাদের স্বজনেরা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনা নিরসনে অভিযুক্ত গাইনী ও প্রসূতি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মাহফুজুর রহমানকে বদলি করা হয়েছে। এছাড়া ডা. মাহফুজুর রহমানকে মারধর করায় ৬ জন ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বেতন-ভাতা কাটানোর মাধ্যমে শাস্তি প্রদান করা হয়ছে। শুক্রবার থেকে নিয়ম অনুযায়ী ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের নোটিশ দেয়া হয়েছে। এটি অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে কক্সবাজার ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. মীর ম.ম. বিল্লাহ তকী জানান, কক্সবাজার সদর হাসপাতালের গাইনী ও প্রসূতি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ২৬ নভেম্বর যৌন হয়রানিসহ অশালীন আচরণে তত্বাবধায়ক বরাবরে অভিযোগ করেন ৬ নারী ইন্টার্ন চিকিৎসক। সে অভিযোগের ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাদের বেতন ভাতা কেটে রাখার সিদ্ধান্ত নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কর্মবিরতি শুরু করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ শাখার সদস্যরা। ফলে সকাল থেকে কোন ওয়ার্ডে ইন্টার্নরা তাদের কাজে যোগ দেয়নি। তবে জরুরি বিভাগের কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল।
৬ জন ইন্টার্ন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে জারিকৃত আদেশ প্রত্যাহার ও অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এ কর্মবিরতি চলমান থাকবে বলে জানান তিনি।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: মুমিনুর রহমান জানান, ‘ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কিছুদিন ধরে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে আসছেন। কিছুদিন আগে তাদের বিরুদ্ধে এক আইনজীবীকে রাস্তায় মারধর করা অভিযোগ পাওয়া যায়। এ নিয়ে কক্সবাজার আইনজীবী সমিতির সভাপতিসহ এক সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
‘সম্প্রতি হাসপাতালের গাইনী ও প্রসূতি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মাহফুজুর রহমানকে রাতে রুমের দরজা বন্ধ করে পেটানো হয়। এ নিয়ে ডা. মাহফুজুর রহমান ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে গেলে আমি নিষেধ করি এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করি। পরে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বেতন বন্ধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত হয়। এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ডা. মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে নারী ইন্টার্ন চিকিৎসককে যৌন হয়রানি ও অশালীন অভিযোগে লিখিত অভিযোগ করেন। বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে জানানো হলে কর্তৃপক্ষ ডা. মাহফুজুর রহমানকে সরিয়ে নেন এবং অন্যত্রে বদলি করেন। তবে হাসপাতালের চলমান কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।’








