কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় সম্ভবত আজ সোমবারই কংগ্রেসের পরবর্তী সভাপতি হতে চলেছেন রাহুল গান্ধী (৪৭)। তিনি তার মা সোনিয়া গান্ধীর স্থলাভিষিক্ত হতে চলেছেন।
ওই পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে সোমবার একমাত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন রাহুল।
এরই মধ্যে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ‘গণতন্ত্রহীনতার’ সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একটি পরিবারই জিতবে, এটাতো নিশ্চিত।
কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচনে রাহুল গান্ধী দিল্লিতে দলের ২৪ আকবর রোড প্রধান কার্যালয়ে সোমবার সকালে নমিনেশন জমা দেন। দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তি এই লড়াইয়ে অংশ নিবেন বলে প্রত্যাশিতই ছিলো। দীর্ঘ ৫ বছর ধরে দলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন রাহুল।
এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সাথে সাক্ষাৎ করেন তিনি। তাদের কাছে আশীর্বাদ চান তিনি। দলের অফিসে, তিনি প্রবীণ কংগ্রেস নেতা শীলা দিক্ষীত এবং মহসিনা কিদওয়াইকে আলিঙ্গন করেন।
মনমোহন সিং বলেন, রাহুল গান্ধী কংগ্রেসের অতিপ্রিয় মুখ। দলের মহান ঐতিহ্যকে তিনি এগিয়ে নিয়ে যাবেন। রাহুলের জমা দেওয়া মনোনয়নপত্রে চারটি সেটের একটির প্রথম প্রস্তাবক তিনি। অপর সেটের প্রথম প্রস্তাবক সোনিয়া গান্ধী।
কংগ্রেসের শীর্ষস্থানীয় নেতারা গুলাম নবী আজাদ, একে অ্যান্টোনি, পি চিদাম্বারাম, সুশীলকুমার সিন্ধে এবং আহমেদ প্যাটেল প্রস্তাবক হিসেবে সেখানে স্বাক্ষর করেছেন। দলের ৬ মুখ্যমন্ত্রীও তাকে সমর্থন করেছেন, এদের মধ্যে রয়েছেন পাঞ্জাবের অমরিন্দর সিং, যিনি রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বের বিরোধীতা করতে পারেন বলে আশঙ্কা ছিলো।

“এটা দলের জন্য একটা ভালো লক্ষণ। আমি নিশ্চিত সে খুব ভালো করবে।” সিং বলেন। তিনি আরও যোগ করেন, তিনি ইতিমধ্যেই তা দেখিয়েছেন এবং গত কয়েকদিন আমরা তা দেখছি।আমরা দেখেছি গুজরাটের সমাবেশকে তিনি কিভাবে আকর্ষণ করেছেন।
কংগ্রেসের সেন্ট্রাল ইলেকশন অথোরিটির চেয়ারম্যান মুলাপালি রামাচন্দ্র বলেন, শুক্রবারে নমিনেশ প্রক্রিয়া উন্মুক্ত করার পর থেকে এখন পর্যন্ত দলের আর একজনও গান্ধীর বিরুদ্ধে লড়াই করার আগ্রহ দেখায় নি। এখন পর্যন্ত রাজ্যের বিভাগীয় প্রতিনিধিদের কাছে ৯০টি মনোনয়ন ফর্ম বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু কোন মনোনয়নপত্র এখন পর্যন্ত জমা পড়েনি। নিউজ অ্যাজেন্সি প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়াকে বলেন রামাচন্দ্র।
সোমবারের শেষ পর্যন্ত রাহুল গান্ধী যদি একমাত্র প্রার্থী থাকেন, তবে তাকেই কংগ্রেসের প্রধান হিসেবে ঘোষণা করা হবে।
সোনিয়া গান্ধী কংগ্রেসের সবচেয়ে দীর্ঘকালীন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৮ সাল থেকে ১৯ বছর ধরে তিনি দলকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।
নেতৃত্বের এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া দলের মধ্যে নির্বিঘ্নে হবে বলেই প্রত্যাশিত ছিলো, যেখানে নেহরু-গান্ধী পরিবারের নেতৃত্বের প্রশ্নে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়া বিরল। তবে তা এবার কিছুটা বিতর্কের মুখে পড়ে।
মহারাষ্ট্রের একজন কংগ্রেস নেতা দলীয় প্রধান নির্বাচনে অভ্যন্তরীণ নির্বাচনকে ‘পাতানো’ বলে অভিহিত করেন। শেহজাদ পুনাওয়ালা ইঙ্গিত দেন নির্বাচনে প্রতিদন্দ্বীতা করার অভিপ্রায় ছিলো তার, একে ‘জালিয়াতি’ বলেও অভিযোগ করেন, যেখানে রাহুল গান্ধী ‘অন্যায্য সুবিধা’ ভোগ করে।

ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ থেকে রাহুলের পদত্যাগ চেয়ে, তার কাছে লিখেছেন শেহজাদ। রাহুলকে ‘পদবীর জন্য নয়, মেধার ভিত্তিতে বিচার করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। পুনওয়ালা (৩০) রবিবার অভিযোগ করে বলেন, তার কাছে ফোন কলের একটি অডিও রেকর্ডিং আছে, যেখানে জ্যেষ্ঠ কংগ্রেস নেতা মনিশ তিওয়ারি বিদ্রোহ না করতে তাকে উপদেশ দিয়েছেন। এটা তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য ভালো হবে বলেও মনিশ বলেছিলেন বলে অভিযোগ তার।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গুজরাটে একটি নির্বাচনী র্যালিতে শেহজাদ পুনাওয়ালার প্রশংসা করেছেন। এই সপ্তাহে গুজরাটে বিধানসভা নির্বাচনে ভোটের লড়াইয়ে নামছে বিজেপি ও কংগ্রেস।
“কিছুদিন আগে নাভসারিতে আমি বলেছিলাম, তিনটি নির্বাচনের ক্ষেত্রে ফলাফল নিশ্চিত। উত্তর প্রদেশের স্থানীয় নির্বাচন, গুজরাট নির্বাচন, যেখানে আমি বলেছিলাম বিজেপি জিতবে, এবং কংগ্রেস প্রেসিডেন্টে নির্বাচন, যেখানে একটি পরিবারই জিতবে।” মোদি বলেন।
মোদি অভিযোগ করেন, কংগ্রেস পুনাওয়ালার মুখ বন্ধ করতে চায়। যাদের অভ্যন্তরে কোন গণতন্ত্র নেই, তারা জনগণের জন্য কাজ করতে পারে না। আমি এই তরুণ তারকা শেহজাদকে বলতে চাই, তুমি একটি সাহসী কাজ করেছো। কিন্তু কংগ্রেসে যা সবসময়ই হয়ে থাকে, তা দুঃখজনক।
তবে এই সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে কংগ্রেস। দলীয় মুখপাত্র সুস্মিতা দেব বলেন, কংগ্রেস নির্বাচন গণতান্ত্রিক কিনা, তা নিয়ে সমালোচনা আছে। আমি বলতে চাই, এটা এমন নির্বাচন, যা তত্ত্বাবধান করে ভারতের নির্বাচন কমিশন।
তিনি আরও দাবি করেন, দলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনগুলোতে ‘পূর্ণ স্বচ্ছতা’ রয়েছে। তা নির্বাচনী প্যানেলের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হয়।







