আওয়ামী লীগ থেকে ওলামা লীগকে বের করে দেয়া হবে এমন সিদ্ধান্ত হচ্ছে- এ খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর বৃহস্পতিবার সংগঠনটির একাংশের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ কাজী মাওলানা মো. আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী বলেছেন: বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন ওলামা লীগ। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আনুগত্যে পরিচালিত দল। এ সংগঠন আছে এবং ইনশআল্লাহ থাকবে।’
গণমাধ্যমের কাছে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, আওয়ামী লীগকে ধর্মহীন এবং ধর্মপ্রাণদের থেকে বিচ্ছিন্ন একটি দল প্রমাণ করতে অনুপ্রবেশকারী বামপন্থিরা ওলামা লীগের বিরুদ্ধাচরণ করছে। মূলত আলেমদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক ভালো হোক এটা তারা চায় না। আওয়ামী লীগকে দ্বীনদারদের থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চায় তারা। এসব অনুপ্রবেশকারী বামপন্থিরা আওয়ামী লীগকে কিছু দেয়নি। বরং আওয়ামী লীগের কাঁধে ভর করে ফায়দা লুটেছে। জনবিচ্ছিন্ন এসব বামপন্থিদের ওলামা লীগ বিরোধী ষড়যন্ত্র কখনো সফল হবে না। ওলামা লীগ বাদ দিয়ে নতুন সংগঠন করা মানে স্ববিরোধী বক্তব্য। এবং বঙ্গবন্ধুকে অসম্মান করা।
বিবৃতিতে ওলামা লীগ নেতারা আওয়ামী লীগের নেতাদের হুমকি দিয়ে বলেন, ওলামা লীগ বাদ দিয়ে নতুন সংগঠন করা মানে স্ববিরোধী বক্তব্য এবং বঙ্গবন্ধুকে অসম্মান করা। কারণ আওয়ামী লীগের নীতি, আদর্শ অনুযায়ী যদি অসাম্প্রদায়িক অঙ্গ সংগঠন বা ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন থাকতে হয়- তাহলে নতুন করে ইসলামী উইং গ্রহণ হয় কী করে? আর যদি ইসলামী উইং গৃহীতই হয় তবে ওলামা লীগ বাদ হয় কী করে। কারণ ওলামা লীগ খোদ বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা দেয়া সংগঠন।
এতে আরো বলা হয়, ওলামা লীগে শুদ্ধিকরণ চলতে পারে কিন্তু বাদ নয়। মাথাব্যথা বলে মাথাই কেটে ফেলা নয়। ওলামা লীগকে আওয়ামী লীগের প্রথাগত সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি দিতে আমরা জোরালোভাবে দাবি করিনি। ওলামা লীগের জন্য তার প্রয়োজনও নেই। কারণ ওলামা লীগ কারো কাঁধে ভর করে চলার মুখাপেক্ষী নয়।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ ও নেতৃত্বেই আওয়ামী ওলামা লীগ সারা দেশব্যাপী সুসংগঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী আলেম-ওলামা ও পীর-মাশায়েখদের অনেক ভালোবাসেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজেই ১৯৬৯ সালে আওয়ামী ওলামা পার্টি গঠন করেন। যা ১৯৯৬ সালে এসে বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগে রূপান্তরিত হয়। সুতরাং ওলামা লীগ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শুধু ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনই নয় বরং তারও অনেক ঊর্ধ্বে।
এর আগে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়: আওয়ামী ওলামা লীগ নামে কোনো সংগঠন চালানোর পক্ষে না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। একাধিক ভাগে বিভক্ত এই সংগঠনটি আওয়ামী লীগের সহযোগী বা ভ্রাতৃপ্রতিম কোনো সংগঠন নয়। আওয়ামী লীগ সমর্থক সংগঠন হিসেবে এটি কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এ প্রেক্ষিতে, আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা এই সংগঠনটির কার্যক্রম স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।








