সবার জন্য নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন নিশ্চিত সহ এসডিজি-৬ অর্জনে বাংলাদেশকে বিশ্বে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠার জন্য কৌশলপত্র তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এসডিজি-৬ অর্জনেও বাংলাদেশ যাতে বিশ্বব্যাপী অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত বা ‘রোল মডেল’ হয়ে উঠতে পারে তার কৌশলপত্র তৈরি করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, এমডিজি’র মত এক্ষেত্রেও আমাদের সাফল্য অর্জিত হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি-৬) বাস্তবায়নে আয়োজিত জাতীয় কর্মশালার উদ্বোধনী ভাষণে এ কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান।
শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রধানমন্ত্রী এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল এন্ড জিওগ্রাফিক ইনফর্মেশন সার্ভিস (সিইজিআইএস) ‘সবার জন্য নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ( এসডিজি’র লক্ষ্যমাত্রা-৬) : বাংলাদেশ প্রেক্ষিত’ শীর্ষক এই জাতীয় কর্মশালার আয়োজন করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সরকার জনগণের জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যেই যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছে। বর্তমানে দেশের ৯৮ শতাংশ মানুষ নিরাপদ পানি পাচ্ছে। আমরা শতভাগ মানুষকে নিরাপদ পানি সরবরাহ করতে চাই।’
জাতিসংঘ নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই সেই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলেও প্রধানমন্ত্রী এ সময় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে পানি সম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী এম নজরুল ইসলাম বীর প্রতীক, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জাফর আহমেদ খান বক্তৃতা করেন।
জাতিসংঘের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পানি বিষয়ক প্যানেলের বিশেষ উপদেষ্টা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার ইতোমধ্যেই ১৯৯৯ সালে জাতীয় পানি, ওয়াটার সাপ্লাই এন্ড সুয়ারেজ এ্যাক্ট-১৯৯৬, জাতীয় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও পয়:নিষ্কাশন নীতিমালা করেছি (১৯৯৮) এবং পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা (১৯৯৭) প্রণয়ন করেছে। সেইসাথে পানি আইন-২০১৩ প্রণয়ন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ন্যাশনাল ওয়াটার সাপ্লাই এন্ড স্যানিটেশন এ্যাক্ট-২০১৪ প্রণয়ন করেছি। শতবর্ষের পরিবর্তনের গতি মাথায় রেখে পানি সম্পদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনার জন্য আমাদের সরকারের যুগান্তকারী উদ্যোগ হচ্ছে-বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান-২০১০’।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের ৬১ শতাংশ মানুষ পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার আওতায় এসেছে। উন্মুক্ত স্থানে মলমূত্র ত্যাগের পরিমাণ বর্তমানে ১ শতাংশের নিচে (দশমিক ৮৮) নেমে এসেছে। যা ২০০৩ সালেও ৪২ শতাংশ ছিল। এ বিষয়ে নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সময় ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যেই দু’টি ক্ষেত্রে শতভাগ সাফল্য আসবে।








